
ঈশ্বরই বৃদ্ধি দেন
03-03-2026
মিথ্যা জ্ঞান
10-03-2026মণ্ডলীর একমাত্র ভিত্তি
১ করিন্থীয় ৩:১০-১১
“কেননা কেবল যাহা স্থাপিত হইয়াছে, তাহা ব্যতীত অন্য ভিত্তিমূল কেহ স্থাপন করিতে পারে না, তিনি যীশু খ্রীষ্ট” (১১ পদ)।
১ করিন্থীয় ৩:৯ পদে মণ্ডলীকে ঈশ্বরের মন্দির হিসাবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে, ১০-১৭ পদে এই বিষয়ে আরও বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন, যেহেতু তিনি করিন্থীয় মণ্ডলীতে দলাদলিকে সংশোধনের বিষয়ে এগিয়ে নিয়েছেন। সর্বোপরি, আমরা দেখব, তার বলার উদ্দেশ্য হলো এই, যেন আমরা কিভাবে মণ্ডলী গঠন করি এবং পরিচালনা করি সেই বিষয়ে আমাদের যথেষ্ট যত্ন নেওয়া উচিত, অন্যনায় আমরা মণ্ডলীকে ধ্বংস করি এবং আমাদের পুরষ্কার হারিয়ে ফেলি।
প্রেরিত, করিন্থীয় মণ্ডলীর ইতিহাসকে সংক্ষিপ্তাকারে স্মরণ করে মন্দিরের উপমা ব্যবহার করে তার ব্যাখ্যা শুরু করেন। পৌল উল্লেখ করেন যে, তিনি “প্রধান গাঁথক,” করিন্থীয় মণ্ডলীর ভিত্তি স্থাপন করেছেন এবং এটা গেঁথে তোলার জন্য অন্যরা তাকে অনুসরণ করেছন (১০ পদ)। প্রাচীন যুগে, “প্রধান গাঁথক” ছিলেন একজন গুণাবলী সম্পন্ন গাঁথক অথবা প্রকৌশলী যিনি একটি বিশেষ প্রকল্প চলাকালীন সময়ে নির্মাণকারীদের দলকে সমন্বয় করতেন। এই বিষয়টি পৌল ভালভাবে বর্ণনা করেছেন, কেননা প্রেরিত হিসাবে যিনি করিন্থীয় মণ্ডলীকে স্থাপন করেছিলেন (প্রেরিত ১৮:১-১৭), তিনি কাজের তত্ত্বাবধান করতেন এবং সেই শহরে খ্রীষ্টিয়ানিটি প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছেন। অন্যান্যরা যারা তাকে অনুসরণ করেছেন শ্রমের ক্ষেত্রে তাদের ভুমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, কিন্তু তাদের প্রচেষ্টাগুলো ভিত্তিমুলক ছিল না। তারা অট্রালিকাটি নির্মাণ করতো, যা অট্টালিকাটিকে সাপোর্ট করতো তা নয়। এই কারণে তারা কিভাবে অট্টালিকাকে (১ করিন্থীয় ৩:১০), বা মণ্ডলীকে নির্মাণ করবে সেইবিষয়ে তাদেরকে সর্তক থাকতো হতো। ঠিক একটি বিল্ডিং যা যথোপযুক্তভাবে একটি ভিত্তিমূলের সাথে আটকানো না থাকলে যেমন দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না, একটি মণ্ডলী যা যথোপযুক্ত ভিত্তিমূলের উপর নির্মিত নয় তাও টিকে থাকতে পারে না।
মণ্ডলীর ভিত্তি কি? পৌল পরিষ্কারভাবে বলেছেন যে, মণ্ডলীর ভিত্তি হলো যীশু খ্রীষ্ট (১১ পদ)। তিনি আরও বলেছেন যে, মণ্ডলীর ভিত্তি প্রেরিত এবং ভাববাদীদের ভিত্তিমূলের উপরে স্থাপিত, যেখানে যীশু হলেন কোনের প্রধান প্রস্তর (ইফিষীয় ২:১৯-২০), কিন্তু আজকের শাস্ত্রাংশ এই বিষয়ের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। পৌল অন্য দিকটিকে অস্বীকার করছেন না; সরলভাবে তিনি এই বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন যে খ্রীষ্টকে ছাড়া, মণ্ডলীর জন্য আর কোন ভিত্তি নাই। অধিকন্তু, প্রেরিত এবং ভাববাদীগণ কেবলমাত্র সেই পর্যন্ত মণ্ডলীর ভিত্তি হিসাবে কাজ করে যতক্ষণ তারা খ্রীষ্টকে প্রতিনিধিত্ব করে এবং আমাদের কাছে তাঁর প্রত্যাদেশকে প্রকাশ করেন। তারা মণ্ডলীর ভিত্তি তাদের ব্যক্তিগত কোন গুণাবলীর কারণে নয়, তারা মণ্ডলীর ভিত্তি কারণ তারা যীশুর জন্য ক্ষমতায়িত মুখপাত্র।
বস্তুত, একজনও নয়, খ্রীষ্টকে ছাড়া কেহই মণ্ডলীর ভিত্তি স্থাপন করতে পারে না। তাই, যেমন জন কেলভিন মন্তব্য করেছেন, যারা নিজেদেরকে খ্রীষ্টিয়ান বলে, তাদের অন্য কোন ভিত্তি স্থাপনের সাহস করা উচিত হবে না, এবং তাদের এমন কোন সুপার কাঠামো তৈরী করা ঠিক হবে না যার ভিত্তির কাছে উত্তর দেওয়ার কিছু থাকবে না”।
ঈশ্বরের মুখ
মণ্ডলীর ইতিহাস জুড়ে, অনেকেই খ্রীষ্টকে বাদ দিয়ে অথবা খ্রীষ্টের সাথে আরও কিছু যোগ দিয়ে মণ্ডলীর ভিত্তি নির্মাণ করতে চেষ্টা করেছেন। আমরা পোপতন্ত্রে, স্ব-নিয়োগকৃত ভাববাদীগণে, তা দেখেছি, যারা মন্দ ব্যবসায়িক কৌশল এবং অন্য অনেক ধরণের উপর মণ্ডলীগুলো স্থাপন করেন। আসুন আমরা এই অনুশীলনীগুলোকে পরিত্যাগ করি এবং মণ্ডলীর একমাত্র ভিত্তি, যা ব্যক্তিগতভাবে, বাক্যে, এবং কাজে খ্রীষ্ট ছাড়া আর কেউ নন তাঁর প্রতি বিশ্বস্ত থাকি।
এই প্রবন্ধটি মূলতঃ লিগনিয়্যার মিনিস্ট্রিজ ব্লগে প্রকাশিত হয়েছিল।