placeholder
আগুনের মধ্যদিয়ে পরিত্রাণ
26-03-2026
placeholder
আমরা কার
09-04-2026
placeholder
আগুনের মধ্যদিয়ে পরিত্রাণ
26-03-2026
placeholder
আমরা কার
09-04-2026

ঈশ্বরের মন্দির ধ্বংস করা

placeholder

১ করিন্থীয় ৩:১৬-১৭

“তুমি কি জান না যে, তোমরা ঈশ্বরের মন্দির, এবং ঈশ্বরের আত্মা তোমাদের অন্তরে বাস করেন?  যদি কেহ ঈশ্বরের মন্দির নষ্ট করে, তবে ঈশ্বর তাহাকে নষ্ট করিবেন, কেননা ঈশ্বরের মন্দির পবিত্র, আর সেই মন্দির তোমরাই”।

পৌল এই বিষয়টা পরিষ্কার করেছেন যে, করিন্থীয় খ্রীষ্টিয়ানরা এবং বৃহত্তর পরিসরে সমস্ত খ্রীষ্টিয়ানরাই “ঈশ্বরের মন্দির” গঠন করে (১ করিন্থীয় ৩:৯)। কিন্তু সেগুলো কি ধরণের মন্দির? ১২-১৫ পদে আমাদের জন্য কিছু ইংগিত দেওয়া হয়েছে, এখানে সোনা, রূপা, মূল্যবান পাথরকে নির্মাণ সামগ্রী হিসাবে আগুনে টিকে থাকে- সেই সঙ্গে অন্যান্য দাহ্য সামগ্রীর কথা বলা হয়েছে। এই ধরণের সুক্ষ জিনিসগুলো পুরাতন নিয়মের নিয়ম সিন্দুক এবং মন্দিরের সাথে সম্পর্কযুক্ত (যাত্রাপুস্তক ২৫-২৬; ১ রাজাবলী ৬-৭), এই বিষয়গুলো আমাদেরকে ইংগিত দেয় যে পৌলের মনে এই বিষয়গুলো ছিল যখন তিনি বলেছেন যে খ্রীষ্টিয়ানরা ঈশ্বরের মন্দির। আজকের শাস্ত্রাংসটি এই বিষয়টি নিশ্চিত করে, কেননা পৌল করিন্থীয় বিশ্বাসীগণকে বলেছেন যে “তোমরা ঈশ্বরের মন্দির এবং .. ঈশ্বরের আত্না তোমাদের মধ্যে বাস করে ” (১ করিন্থীয় ৩:১৬)।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই, পৌল  ১ করিন্থীয় ৩:১৬-১৭ পদে সামগ্রিকভাবে সমস্ত মণ্ডলীর কথা বলেছেন। এটাও নিশ্চিত যে, প্রত্যেক খ্রীষ্টিয়ান ব্যক্তিও পবিত্র আত্নার মন্দির, যেমন প্রেরিত আমাদেরকে বলেছেন ৬:১৯-২০ পদে। তথাপি, খ্রীষ্টের দেহ সামগ্রিকভাবে হলো ঈশ্বরের মন্দির যেখানে আত্না বাস করেন (৩: ১৬), এবং এই মন্দির ধ্বংসিত হতে পারে (১৭ পদ)। অবশ্যই, পৌল চুড়ান্তভাবে এই মন্দিরের বা মণ্ডলীর ধ্বংসের বিষয়ে বলছেন না। খ্রীষ্ট তাঁর মণ্ডলীকে গাঁথছেন, এবং পাতালের পুরদ্বারসকল এর বিরুদ্ধে প্রবল হতে পারবে না (মথি ১৬:১৮)। যেমন বিশ্বাসের ওয়েষ্ট মিনিষ্টার স্বীকারোক্তি ২৫:৫ ব্যাখ্যা করেছে, পৃথিবীতে সবসময়ই ঈশ্বরের ইচ্ছানুযায়ী আরাধনা করার জন্য একটি মণ্ডলী থাকবে।” যাই হউক, ভ্রান্ত মতবাদ যা নামমাত্র খ্রীষ্টিয়ানে পরিনত করে বা ছোট খাটো বিষয় নিয়ে দলাদলিতে পরিনত করে তা দিয়ে একটি স্বতন্ত্র দৃশ্যমান মণ্ডলীকে ধ্বংস করা যেতে পারে। 

শাস্ত্র বারংবার আমাদেরকে সতর্ক করে যে ভ্রান্ত মতবাদ মণ্ডলীকে ধ্বংস করতে পারে; যেমন যিহুদা পুস্তকটি এই বিষয়ের জন্য উৎসর্গকৃত। তথাপি, আমাদের ভুলে যাওয়া ঠিক হবে না কারণ শাস্ত্র আমাদেরকে আরও সতর্ক করে যে গোঁরা মতবাদের লোকেরাও মণ্ডলীকে ধ্বংস করতে পারে। যেমনটি আমরা দেখেছি, করিন্থীয়রা যে বিপদসমুহ মোকাবেলা করছিলেন তাদের মধ্যে হয়তো এটাই ছিল সবচেয়ে বিপদজনক। তাদের দলাদলি যেমন ১ করিন্থীয় ১-৩ পদে বর্ণীত হয়েছে এর মধ্যে মতবাদের কিছুই ছিল না- যদিও তাদের মধ্যে কারো কারো মতবাদ দুর্বল ছিল- এবং তা ছিল লোকেরা কে ছিল সে বিষয়ে, যদিও তারা একই মতবাদ ধারণ করতেন, তারা অধার্মিক উপায়ে তাদের নিজেদের জন্য সুযোগ সুবিধার অন্বেষণ করছিলেন। ঈশ্বরের অন্যজাগতিক জ্ঞানের উপর নম্র নির্ভরতা থেকে আসা প্রেম এবং সেবা করিন্থীয় খ্রীষ্টিয়ানদের জীবন যাপনকে পরিচালিত করছিল না, এবং এটা অনেক সমস্যা সৃষ্টি করছিল। 

আমরা অনেকেই দেখেছি মণ্ডলীগুলো বিভক্ত হয় যখন গোঁড়া বিশ্বাসীগণ একে অন্যকে প্রেম এবং সেবা করা বন্ধ করে দেয় এবং ছোটখাটো বিবাদ এতটাই বেড়ে যায় যে দেহ থেকে ভিন্ন ভ্নি দল আলাদা হয়ে যায়। এটা যেন না হয় তার জন্য আমাদেরকে অবশ্যই যত্ন নিতে হবে, কেননা ৩:১৭ পদ শিক্ষা দেয়, এমন ধ্বংস ঈশ্বরের বিচারকে আহবান করতে পারে।   

ঈশ্বরের মুখ
সঠিক মতবাদ থেকে আমরা প্রেমপূর্ণ কাজকে আলাদা করতে পারি, কিন্তু সেগুলোকে আমাদের কখনই আলাদা করা উচিত হবে না। মণ্ডলীর স্বাস্থ্য এবং কল্যাণের জন্য উভয়ই প্রয়োজন। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ সত্যের জন্য কঠিন সমালোচনায় প্রশংসীয় উদ্যোগকে জড়িয়ে পড়তে দিয়ে প্রেমের চেয়ে মতবাদকে বেশী গুরুত্ব দেওয়ার মনোভাব পোষন করতে পারে। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ সহানুভুতির নামে ভয়ংকর ভুলগুলোকেও অবহেলা করে মতবাদে উপরে প্রেমকে গুরুত্ব দেওয়ার মনোভাব পোষন করতে পারে। তাই, আসুন আমরা আমাদের মণ্ডলীগুলোতে সঠিক শিক্ষা এবং প্রেমপূর্ণ কাজ উভয়ইকেই পুরষ্কৃত করি।

এই প্রবন্ধটি মূলতঃ লিগনিয়্যার মিনিস্ট্রিজ ব্লগে প্রকাশিত হয়েছিল।

লিগোনিয়ার সম্পাদকীয়
লিগোনিয়ার সম্পাদকীয়
লিগোনিয়ার মিনিস্ট্রিজের প্রবন্ধ, বই এবং শিক্ষামূলক বিষয়বস্তু।