
বিচারের সঠিক সময়
23-04-2026খ্রীষ্টিয় জীবনযাপন/খ্রীষ্টিয় চরিত্র জগতের কাছে কৌতুকাস্পদ হওয়া
১ করিন্থীয় ৪:৮-৯
“কারণ আমার বোধ হয়, প্রেরিতগণ যে আমরা, ঈশ্বর আমাদিগকে বধ্য লোকদের ন্যায় শেষের বলিয়া দেখাইয়াছেন; কেননা আমরা জগতের ও দূতগণের ও মনুষ্যদের কৌতুকাস্পদ হইয়াছি।” (v. 9).
একদা যখনই বিশ্বাসীরা প্রথাগত মণ্ডলীর নেতাদেরকে তাদের বরদান এবং প্রতিভার উপর ভিত্তি করে এক অন্যের বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে শুরু করবে, অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে। একটি মণ্ডলী বিদ্রোহী দলে বিভক্ত হতে পারে (১ করিন্থীয় ১:১০-১৭)। লোকেরা অন্যদের বরদানের উপর ভিত্তি করে তাদের বিশ্বস্ততাকে বিচার করা শুরু করতে পারে বা তাদের উদ্দেশ্যগুলোকে মূল্যায়ণ করতে চেষ্টা করতে পারে। আমরা মনে করতেই পারি সঠিকভাবে উদ্দেশ্য প্রনোদিত পরিচার্যাকারীদেরকে ঈশ্বর সুবক্তা হিসাবে এবং জগতের মানদন্ড অনুসারে বিশাল সাফল্য দিয়ে আশির্বাদ করবেন (১ করিন্থীয় ৪:১-৫)। এই বিষয়টি আমাদেরকে আমাদের নিজেদের বরগুলোকে ভুলভাবে মূল্যায়ণ করার দিকেও পরিচালিত করতে পারে। আমরা যদি আমাদের বরগুলোর উপর গুরুত্ব দিই, আমরা অন্যদের, যাদের মধ্যে আমাদের বিশেষ বরগুলোর অভাব রয়েছে, তাদের চেয়ে আমাদের নিজেদেরকে আরও বেশী মহান হিসাবে দেখতে শুরু করতে পারি। করিন্থীয়তে সম্যাগুলোর মধ্যে এটা ছিল একটি সমস্যা, তাই, পৌল করিন্থীয়দের তাদের আত্নিক বরদানের উপর ভিত্তি করে একে অপরের উপর শ্রেষ্ঠ বোধ করার বিষয়ে সংশোধন করেছেন (১২-১৪ অধ্যায়)।
প্রথম করিন্থীয় ৪:৭ পদ এই সমস্যাকে ইংগিত করে, কারণ পৌল তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, তাদের বরগুলো ঈশ্বর থেকে, এবং এই কারণে তারা এই বরগুলোর উপর অহংকার করতে পারে না। কারণ এই বরগুলো, যথাযথভাবে বললে বলতে হয় যে, তাদের নিজেদের নয়। বিশ্বাসীরা তাদের বরগুলোর কেবলমাত্র তত্ত্বাবধায়ক। করিন্থীয়রা তাদের নিজেদেরকে তত্বাবধায়ক হিসাবে দেখছিলেন না, এবং তারা মণ্ডলীর নেতাদেরকেও এভাবে মনে করছিলেন না (১-৬ পদ)। উল্টো, তারা যে ঈশ্বরের দেওয়া বরগুলোর তত্ত্বাবধায়ক তা ভুলে যাওয়ার তা তাদেরকে তাদের নিজেদের প্রতিভার উপর অহংকারী হওয়ার দিকে এবং পরে, তাদের দৃষ্টিতে “কম প্রতিভাবান” প্রেরিত পৌলের কতৃর্ত্বের বিষয়ে প্রশ্ন তোলার দিকে পরিচালিত করেছিল। আজকের শাস্ত্রাংশে পৌল তাদের অহংকার এবং প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন।
যারা পৌলকে সন্দেহ করেছিল, তিনি তাদের কয়েকটি কথার পুনরাবৃর্ত্তি করেছেন। তারা তাদেরকে রাজা এবং ধনী হিসাবে দাবী করছিল (৪:৮)। অর্থাৎ, তারা দাবী করেছিলেন যে, ঈশ্বরের রাজ্যের পূর্ণতা এসে গেছে এবং তারা জগতের বিচার করতে শুরু করেছে (৬:২ পদ দেখুন), এর মধ্যে ঈশ্বরের দাসগন প্রেরিতগনও রয়েছে। অবশ্যই, রাজার কাছে যে ক্ষমতা থাকে তা এবং বিচার করার ক্ষমতা ইতিমধ্যে নীতিগতভাবে খ্রীষ্টিয়ানদের রয়েছে, তাই এর জন্য আমাদেরকে আর লড়াই করার প্রয়োজন নাই (৩:২১-২৩)। যাই হউক, নীতিগতভাবে, কোন কিছুর অধীকার পাওয়া এবং উপস্থিত মতে কিছু ব্যবহার করার অধিকার লাভ করা এক বিষয় নয়। পরের বিষয়টি মনে হয় তাই যা পৌলের বিপক্ষরা তাদের নিজেদের জন্য দাবী করেছিল। প্রথম করিন্থীয় ৪:৯ পদ উল্লেখ করে যে, পৌলের বিরোধীরা একটি ভুল সময়ে এবং জাগতিকভাবে তাকে বিচার করছিল, এই কারণে পৌল তার নিজের এবং অন্য প্রেরিতদের সম্পর্কে যারা তাদেরকে “সবার শেষের, মৃত্যদন্ড প্রাপ্ত লোকদের ন্যায়” বিবেচনা করেন তাদের পক্ষে কথা বলেছেন। পৌল প্রেরিতগনকে রোমীয় যুদ্ধ বন্দীদের সাথে তুলনা করেছেন, পরাজিত, অপমানিতদের সাথে তুলনা করেছেন, যাদের মুত্যু দন্ড কার্যকর করার ঠিক আগে অন্যদের সামনে দিয়ে নিয়ে যাওয়া হতো। করিন্থীয়দের কেউ কেউ পৌলকে সেই বন্দীদের চেয়ে ভাল মনে করতেন না, পরাজিত, অপমানিত মনে করতেন, কিন্তু প্রেরিত এই দৃষ্টিভঙ্গিকে এর মাথার তুলে উপরে তুলে রাখেন।
ঈশ্বরের মুখ
প্রজ্ঞার দাবী হলো এই যে, আমরা যেন ঈশ্বর প্রদত্ত বরদানগুলোর এবং অধিকারগুলো সঠিক সময়ে এবং সঠিক উপায়ে ব্যবহার করি। আমরা যদি খুব তাড়াতাড়িভাবে এবং জাগতিক মানদন্ড অনুসারে বিচার করি, আমরা বড় ভুল করতে পারি। আসুন আমরা প্রার্থনা করি, যেন ঈশ্বর আমাদেরকে এবং বস্তুত বাকী সমস্ত মণ্ডলীকে বিচার করার এবং সঠিকভাবে মূল্যায়ণ করার প্রজ্ঞা দান করেন।
এই প্রবন্ধটি মূলতঃ লিগনিয়্যার মিনিস্ট্রিজ ব্লগে প্রকাশিত হয়েছিল।