
খ্রীষ্টিয় জীবনযাপন/খ্রীষ্টিয় চরিত্র জগতের কাছে কৌতুকাস্পদ হওয়া
30-04-2026
পৌল, করিন্থীয়দের পিতা
14-05-2026খ্রীষ্টের জন্য বোকামী
১ করিন্থীয় ৪:১০-১৩
“অপবাদিত হইতে হইতে বিনয় করিতেছি; অদ্য পর্যন্ত আমরা যেন জগতের আবর্জনা, সকল বস্তুর জঞ্জাল হইয়া রহিয়াছি” (১৩ পদ).
পৌল করিন্থীয় মণ্ডলী স্থাপন করেছিলেন এই সত্য সত্বেও (প্রেরিত ১৮:১-১১), ১ করিন্থীয় পত্র লেখার সময়ে মণ্ডলীর কিছু লোক তাকে বিরোধীতা করেছিল। এই বিষয়টি ১ করিন্থীয় ৪:১-৭ পদে আরও পরিষ্কার যেখানে পৌল সেই লোকদের, যারা তার পরিচর্যার উদ্দেশ্যকে বিচার করছিল এবং যারা নিজেদেরকে পৌল এবং আপল্লো- প্রভুর দাস হিসাবে, একই সারীতে রাখতে চেয়ে ব্যর্থ হয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। কিছু বিরোধীতা পৌলের দুঃখভোগ এবং আপাততদৃষ্টিতে দুর্বলতার সহিত সম্পর্কযুক্ত ছিল, কারণ পৗল নিজেকে এবং অন্যান্য প্রেরিতগনকে রোমীয় যুদ্ধবন্দীদের সাথে তুলনা করেছেন, যাদেরকে তাদের শত্রুদের সামনে পরাজিত এবং অপমানীত অবস্থায় তাদের মৃত্যুর আগে নিয়ে যাওয়া হতো (৮-৯ পদ)।
তথাপি, পৌল অবশ্যই এই তুলনা করেন নি, কারণ তিনি মনে করতেন তার দুর্বলতা অন্যান্য বিশ্বাসীদের কাজের চেয়ে তার পরিচর্যাকে বাতিল বা হ্রাস করে নি। প্রকৃতপক্ষে, পৌল তার আপাতত দুর্বলতার গৌরব করেছেন, কারণ এটা ঈশ্বরের প্রজ্ঞাকে উন্নত এবং শক্তিশালী করেছে, এই জগত যা বোকামী এবং দুর্বল বলে আখ্যায়িত করে তার মধ্যদিয়ে কাজ করে তিনি জগতের প্রজ্ঞাকে এর মস্তকে উল্টে দিয়েছেন (১:২৭; ২ করিন্থীয় ১২:৯-১০)। সেই ঈশ্বরই µz‡ki উপর খ্রীষ্টের আপাতত দৃষ্টিতে বোকামী এবং দুর্বল কাজের মধ্যদিয়ে এবং আপাতত মনে হয় বোকা এবং দুর্বল বার্তাবাহকদের মধ্যদিয়ে সুসমাচার ঘোষনার মধ্যদিয়ে প্রভুর শক্তিকে মহিমান্বিত করেছে, কেননা একমাত্র তিনিই এ জগত যা তুচ্ছ করে সেই সমস্ত কিছু দিয়ে মহান বিষয়গুলো সম্পাদন করতে পারেন।
তাই, ১ করিন্থীয় ৪:১০-১৩ পদে পৌল তার পরিচর্যা কাজের প্রমান হিসাবে অনেক দুঃখকষ্ট এবং দুর্বলতাগুলোর তালিকা দিয়ছেন, তথাপি তিনি তার বিরোধীদের সঙ্গে একমত হন নি যে, তার পরিচর্যা কাজ বৃথা হতে পারে। প্রকৃতপক্ষে, এটা হলো প্রভুতে গর্ব করার এটা ধরন। এটা হলো এমন যেন তিনি বলছেন, “হ্যাঁ, এই সমস্ত কিছুই আমাদের দুঃখভোগ সমন্ধে যা সত্য, এবং প্রকৃতপক্ষে এটা আমাদের প্রৈরেতিক আদেশকে প্রমাণ করে।” এটাই পৌল ২ করিন্থীয় ১১:১৬-১২:২০ পদে কমবেশী স্পষ্ট করে বলেছেন, তাই, আজকের শাস্ত্রাংশের মধ্যে তার দুঃখভোগের তালিকা সম্পর্কে আমাদেরকে তাই চিন্তা করতে হবে।
করিন্থীয় মণ্ডলীর অনেকেই এমন মনে করতেন, যা পন্ডিতগণ “পরকাল সম্পর্কে অতিরিক্ত উপলদ্ধি” হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। অর্থাৎ, তারা মনে করতেন যে, ঈশ্বরের শেষ সময়ের সকল আশির্বাদগুলোতো খ্রীষ্টের আগমনের পূর্বে বাস্তব হওয়ার কথা। এভাবে, তারা পৌলের মতো প্রেরিতদেরকে যারা জগতের চোখে কিছুই ছিলনা এবং সফল ছিলনা, এবং যাদের দুঃখভোগ এমন অবস্থার সৃষ্টি করেছে যে, যেন তারা খ্রীষ্ট যে কর্তৃত্বের প্রতিজ্ঞা করেছিলেন তা অনুসারে শাসনই করেন নি, তাদেরকে অবজ্ঞা করার প্রবণতা দেখাতো (১ করিন্থীয় ৬:২ পদ দেখুন)। যাই হউক, সেই দৃষ্টিভঙ্গি এই সত্যকে বুঝঁতে ব্যর্থ যে, পৌল এবং অন্যান্য প্রেরিতগন তাদের দুঃখভোগে যিশাইয় ৫২:১৩-৫৩:১২ পদে উল্লেখিত দুঃখভোগী দাস যীশুর মতো আরও দেখতে, যাদের দুখঃভোগ তার থেকে আরও সহজতর। কিছু সংখ্যক করিন্থীয়দের কর্তৃক কম মূল্যায়িত হওয়াকে সমর্থন করার পরিবর্তে, পৌলের দুঃখভোগ তার প্রেরিতিক আহবানকে নিশ্চিত করেছিল।
ঈশ্বরের মুখ
দুঃখভোগ এবং সুসমাচার প্রচার পরিচর্যা একসঙ্গে চলে। কখনও কখনও এই দুঃখভোগ অন্য সময়ের চেয়ে তীব্র হতে পারে, কিন্তু সুসমাচার প্রচার সর্বদাই কোন না কোন মহল থেকে বিরোধীতাকে আহবান করে। এটা আমাদের জন্য ভাল যে, এটা আমরা বুঝতে পারি তা না হলে আমাদের মনের অজান্তেই আমাদেরকে বন্দী করে ফেলতো। আসুন, আমরা বিশেষভাবে আমাদের খ্রীষ্টিয় নেতা যারা সুসমাচারের জন্য প্রায়ই সাংঘাতিক দুঃখভোগের সম্মুখীন হন, তাদের জন্য প্রার্থনা করি।
এই প্রবন্ধটি মূলতঃ লিগনিয়্যার মিনিস্ট্রিজ ব্লগে প্রকাশিত হয়েছিল।