placeholder

খ্রীষ্টের জন্য বোকামী

07-05-2026
placeholder

পৌলের অনুকারীগণ

21-05-2026
placeholder

খ্রীষ্টের জন্য বোকামী

07-05-2026
placeholder

পৌলের অনুকারীগণ

21-05-2026

পৌল, করিন্থীয়দের পিতা

placeholder

১ করিন্থীয় ৪:১৪-১৫

“আমি তোমাদিগকে লজ্জা দিবার জন্য নয়, কিন্তু আমার প্রিয় বৎস বলিয়া তোমাদিগকে চেতনা দিবার জন্য এই সকল লিখিতেছি। কেননা যদিও খ্রীষ্টে তোমাদের দশ সহস্র পরিপালক থাকে, তথাচ পিতা অনেক নয়; কারণ খ্রীষ্ট যীশুতে সুসমাচার দ্বারা আমিই তোমাদিগকে জন্ম দিয়াছি।”

পৌল যখন করিন্থীয় মণ্ডলীকে লিখেন তখন অবশ্যই তাকে বিশ্বাসীদের বিশেষভাবে যারা তাদের চিন্তা ভাবনায় অপরিপক্ক ছিলেন তাদের কথা পরিষ্কারভাবে বিবেচনা করতে হয়েছে। এই বিষয়ে ১ এবং ২ করিন্থীয় উভয় পত্রেই অনেক কিছু আছে যা একই বিষয়কে ইংগিত করে, এবং আমরা ইতিমধ্যে করিন্থীয় বিশ্বাসীদের মণ্ডলীতে পদমর্যাদা, একে অপরের উপরে শ্রেষ্ঠত্ব দেখানো, এবং এমন কি প্রেরিত পৌলের পরিচর্যাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য জাগতিক উপায়গুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে, তাদের অপরিপক্কতা দেখেছি (১ করিন্থীয় ১:১০-৪:১৩)। পত্রের এই পর্যায়ে, নিশ্চয় পৌল তাদের উপরে তার প্রৈরিতিক কর্তৃত্বের বিষয়ে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, যেন তিনি করিন্থীয় মণ্ডলীর অন্যান্য বিষয়গুলো যা তার নজরে এসেছে তা সমাধান করতে পারেন। 

অবশ্যই, পৌল “আমি একজন প্রেরিত। আমার কর্তৃত্ব আছে। আমার কথা শুনুন এবং আপনাদের প্রশ্ন করা বন্ধ করুন এবং অভিযোগ করা বন্ধ করুন” এমন কিছু বলে থাকতে পারতেন। যাই হউক, পৌল সেটা করেন নি, যেমনটি আমরা আজকের শাস্ত্রাংশে দেখতে পাই। প্রভুর একজন ’দাস’ হিসাবে (তিনি নিজেকে দাস হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন, ৪:১-৭), প্রেরিত তার কর্তৃত্ব দিয়ে তাদের উপরে প্রভুত্ব করতে চান নি। বরং তাদের সাথে তার অনুপম সম্পর্কের বিষয় উষ্ণ, পরিচিত ভাষায় বলে তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার দ্বারা তিনি তার কর্তৃত্বের প্রতি মনোযোগ আকর্ষন করেছেন। 

আমরা ৪:১৪ পদে দেখতে পাই যে, পৌল প্রেরিতত্বের উপর তাদের অল্প ধারণার বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক দিয়ে তাদেরকে লজ্জিত করছেন না; বরং তার উদ্দেশ্য ছিল চেতনা দান করা। ঠিক যেমন একজন পিতা তার বিপদগামী পুত্র এবং কন্যাদের আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য অনুযোগ বা উৎসাহিত করার ক্ষত্রে কঠিন বাক্য ব্যবহার করতে পারেন, ঠিক তেমনি প্রেরিত পৌল করিন্থীয়দের তার “প্রিয় ছেলেমেয়ে” হিসাবে অনুযোগ করছেন। তিনি নিজেকে তাদের পিতা এবং তাদেরকে তার ছেলেমেয়ে হিসাবে দেখেন, এবং এই উপমার সাথেই আসে কর্তৃত্ব, প্রেম, এবং বাধ্যতার সমস্ত ধারনা, যা সঠিক বিন্যাসে পিতা-সন্তানদের সম্পর্কের মধ্যে বিদ্যমান। 

যেহতু পৌল একজন প্রেরিত ছিলেন, তাই করিন্থীয়রা তার কথায় কর্ণপাত করতে বাধ্য ছিল। যাইহউক, এক অর্থে, অন্যান্য শিক্ষক বা প্রেরিতদের চেয়ে, পৌলের কাছে তাদের মহান একটি দায়বদ্ধতা ছিল, কেননা তার কাজের মধ্যদিয়েই তাদের মধ্যে অনেকেই ধর্মান্তরিত হয়েছিল এবং করিন্থীয়তে মণ্ডলী স্থাপিত হয়েছিল (প্রেরিত ১৮:১-১১)। করিন্থীয়দের কাছে বৈধ অনেক “গাইডগন” বা শিক্ষকগণ ছিলেন, এদের মধ্যে পিতর, (কৈফা) এবং আপল্লোও ছিলেন (১ করিন্থীয় ১:১২), কিন্তু তাদের একজনই পিতা ছিলেন- তিনি পৌল, যার পরিচর্যার মধ্যদিয়ে করিন্থীয়তে সুসমাচার শিকড় বিস্তার করেছিল (৪:১৫ পদ)।  তার সন্তান হিসাবে, তাদের কাছে তার প্রেম এবং বাধ্যতা পাওনা ছিল। এটি এমন একটি প্রেম এবং বাধ্যতা যা ভালভাবে প্রতিষ্ঠিত, কেননা পৌলের হৃদয়ে শুধুমাত্র করিন্থীয়দের সবেচেয়ে ভাল স্বার্থই ছিল, তিনি তাদেরকে সুসমাচারে এবং এর ফলাফলে নির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সত্য সত্য, তিনি কেবলমাত্র তাদের প্রেরিত ছিলেন না কিন্তু তিনি তাদের পালকও ছিলেন।

ঈশ্বরের মুখ

আজকে মণ্ডলীতে আমাদের কোন প্রেরিত বা যাদের প্রৈরিতিক কর্তৃত্বপ্রাপ্ত এমন কেউ নাই। তবুও, আমাদের বিশ্বাসের পিতা-মাতাদের শ্রদ্ধা এবং সম্মান করা ঠিক এবং যথাযথ। যারা নবীন তাদেরকে অবশ্যই প্রজ্ঞার জন্য প্রবীনদের কাছে যাওয়া উচিত, এবং যারা প্রবীন তাদেরকে অবশ্যই নবীনদের প্রতি ধৈর্যশীল হওয়া ‍উচিত এবং তাদের আকাংখাগুলোর দিকে নজর দেওয়া উচিত।

এই প্রবন্ধটি মূলতঃ লিগনিয়্যার মিনিস্ট্রিজ ব্লগে প্রকাশিত হয়েছিল।

লিগোনিয়ার সম্পাদকীয়

লিগোনিয়ার সম্পাদকীয়

লিগোনিয়ার মিনিস্ট্রিজের প্রবন্ধ, বই এবং শিক্ষামূলক বিষয়বস্তু।