
অনাত্নিক লোকবৃন্দ
26-02-2026
মণ্ডলীর একমাত্র ভিত্তি
05-03-2026ঈশ্বরই বৃদ্ধি দেন
১ করিন্থীয় ৩:৫-৯
“অতএব রোপক কিছু নয়, সেচকও কিছু নয়, বৃদ্ধিদাতা ঈশ্বরই সার। আর রোপক ও সেচক উভয়েই এক, এবং যাহার যেরূপ নিজের শ্রম, সে তদ্রূপ নিজের বেতন পাইবে” (৭-৮ পদ)।
যেহেতু ১ম শতাব্দির করিন্থীয় খ্রীষ্টিয়ানরা পবিত্র আত্নার মধ্যদিয়ে নূতন জন্ম লাভ করে এবং তাদের কাছে প্রকাশিত সুসমাচার অনুসারে মন পরিবর্তন করেছিলেন, (প্রেরিত ১৮:১-১১; ১ করিন্থীয় ১:৪-৯; ২:১-১৬), এজন্য তারা ছিলেন আত্নিক লোক। তথপি, যেহেতু আত্নিক লোকদের ক্ষেত্রে প্রায়ই এমনটি ঘটে থাকে – অর্থাৎ খ্রীষ্টেতে বিশ্বাসীগণের ক্ষেত্রে- ১ শতাব্দির করিন্থীয়রা একটি আত্নিক ভাবে চলছিলেন না কিন্তু তারা জাগতিক জ্ঞানকে অনুসরণ করছিলেন। পৌল ১ করিন্থীয় ৩:৪ পদে এই বিষয়ে আবার উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি বলেন যে, তাদের দলাদলি যা একজন শিক্ষককে অন্যজনের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছে, তা “কেবলমাত্র মানুষের” মত করে কাজ করা ছাড়া আর কিছু না।
মণ্ডলীতে পদপর্যাদা লাভের জন্য মানুষ সাধারণত কেন দলাদলিতে বিভক্ত হয়, এবং ব্যক্তিগত প্রভাব এবং আত্নিয়করণকে ব্যবহার করে? এই অর্থ হলো এই যে, কারণ আমরা মানুষে এবং তাদের বরদান, এবং ক্ষমতার জন্য তাদের গুণাবলীতে দৃষ্টিপাত করি, আমরা ভুলে যাই যে যতজন লোক খ্রীষ্টেতে আছে তাদের সকলেই মধ্যেই সত্য ঈশ্বর আছেন এবং পরিচর্যাতে আমাদের যে সফলতাই আসুক না কেন তা তাঁর কাছ থেকে আসে। প্রভু তাঁর লোকদেরকে ভিন্ন ভিন্ন বরদান দিয়েছেন, যেমন এর মধ্যে কেউ কেউ রয়েছেন প্রেরিত, অন্যদের চেয়ে তাদের বিশেষ বরদান রয়েছে, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে মণ্ডলীর বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য চুড়ান্তভাবে কেবলমাত্র সেই ব্যক্তিদের উপর নির্ভর করে। মণ্ডলীর বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য, মূলত ঈশ্বরের কাজ থেকে আসে। এটাই হলো আজকের শাস্ত্রাংশে পৌলের যুক্তির মূল বিষয়।
যিনি বরদান প্রদান করেন তাঁর উপর দৃষ্টিপাত না করে বরপ্রাপ্ত লোকদের উপর দৃষ্টিপাত করা ঈশ্বর যেভাবে কাজ করেন তার বিপরীত কারণ এটা লোকদেরকে পরিবর্তন এবং মনোনীতদের উচ্চিকৃত করার সুসমাচারের মধ্যে ঈশ্বরের সাবোভৌম্য ক্ষমতাকে অস্বীকার করে (১:১০-৩১ পদ দেখুন)। বিশ্বাসীগণ, ঈশ্বরের অনুগ্রহের দ্বারা, ঈশ্বরের রাজ্যে হয়তো একটি তাৎপর্যপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন। তথাপি, তারা এই রাজ্যের বৃদ্ধি এবং সফলতা নির্ধারণ করেন না। এটা এমন কি উল্লেখযোগ্য খ্রীষ্টিয়ান শিক্ষক আপোল্লো এবং প্রতিষ্ঠাতা প্রেরিত যেমন পৌলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। প্রত্যেক বিশ্বাসীগনই ঈশ্বরের কাছ থেকে বরদান লাভ করেছেন এবং প্রচার অথবা বিশ্বাসীদের বিশ্বাস বৃদ্ধিকে সঞ্চালনা এবং নির্দেশনাগুলো সংশোধন করার মধ্যদিয়ে সুসমাচারকে স্থাপন করার জন্য তাদেরকে একটি কাজ দেওয়া হয়েছে। তবুও, যেকোন বৃদ্ধিই ঈশ্বরের কাছ থেকে আসে, ঠিক যেমন একজন কৃষক, ফসলের বৃদ্ধিতে সে যতই পরিশ্রম করুক না কেন, তার ফসলের বৃদ্ধির জন্য সে একমাত্র প্রভুকেই কৃতিত্ব দিতে পারে। বস্তুত, বৃদ্ধির কারণ আমরা নই, তিনিই আত্নিক বৃদ্ধি দান করেন, দাস হিসাবে আমরা কেবলমাত্র ঈশ্বরের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করি (৫ পদ)।
সুতরাং, একজন গোঁরা শিক্ষকের বিরুদ্ধে আরেকজনকে দাঁড়করানো অথবা অন্যদের দ্বিতীয় প্রচেষ্টাকে বিরোধিতা করার জন্য দলাদলিতে বিভক্ত হওয়া বোকামী। আমরা যদি খ্রীষ্টেতে থাকি আমরা সকলেই একই দলে আছি। আমরা যেহেতু মহান আদেশ পূর্ণ করার জন্য কাজ করি ঈশ্বর চান যেন আমরা এক হই (৮-৯ পদ). কাজ হলো তাঁর, এবং তিনি একজনই।
ঈশ্বরের মুখ
ঈশ্বরের মুখহিপোর আগষ্টিন আমাদেরকে গর্ব, যা আমাদের বা অন্যদের বর প্রাপ্তির কারণে আসতে পারে, তা পরিত্যাগ করার জন্য আহবান করেন। তিনি মন্তব্য করেন, “যদি ঈশ্বর বৃদ্ধি না দিতেন, তাহলে যেহেতু প্রেরিতগণ কিছুই করতে পারতেন না, সেহেতু এটা আপনার এবং আমার জন্য অথবা আমাদের সময়ে যে কারোর জন্য, যিনি নিজেকে একজন শিক্ষক হিসাবে ভাবে তার জন্য কতটা না সত্য”। ঈশ্বর আমাদের মধ্যদিয়ে তার মণ্ডলীর বিস্তার সাধন করেন। শক্তি এবং ফলাফল তাঁরই, আমাদের নয়।
এই প্রবন্ধটি মূলতঃ লিগনিয়্যার মিনিস্ট্রিজ ব্লগে প্রকাশিত হয়েছিল।