
ন্যায্যতা সমন্ধে ৫টি বিষয় আপনার জানা উচিত
04-11-2025
ঈশ্বরই বৃদ্ধি দেন
03-03-2026অনাত্নিক লোকবৃন্দ
১ করিন্থীয় ৩:১-৪
“ভাইয়েরা, যারা আত্মিক সেই রকম লোকদের কাছে যেভাবে কথা বলা উচিত, আমি তোমাদের কাছে সেইভাবে কথা বলতে পারি নি, বরং যারা পাপ-স্বভাবের অধীনে আছে তাদের কাছে যেভাবে কথা বলা উচিত, সেইভাবেই তোমাদের কাছে কথা বলেছিলাম।” (১ পদ).
আজকে, আবার আমরা আমাদের ১ করিন্থীয় অধ্যায়ণে ফিরে আসি। পৌল, µzশের মধ্যে ঈশ্বরের জ্ঞান যা এই জগতের প্রজ্ঞার সাথে সাংর্ঘষিক, যা করিন্থিয় বিশ্বাসীদের মধ্যে দলভেদ তৈরী করেছে এই বিষয়ে এইমাত্র তার নাতিদীর্ঘ বক্তব্যের সারাংশ করেছেন। ঈশ্বরের জ্ঞান, µzশের দুর্বলতায় প্রকাশিত হয়েছে, যা সেবা এবং নিজেকে অস্বীকারের দিকে চালিত করে। এটা ছিল করিন্থীয় দলদের সাথে সাংঘর্ষিক, যেখানে লোকেরা তাদের ব্যক্তিগত বিষয় এবং তাদের নিজেদের নাম প্রচার করার জন্য জগতের পদ্ধতি ব্যবহার করতো। কারণ এই ধরণের জ্ঞান নূতন জন্ম প্রাপ্তহীনদের কাছে অকল্পনীয়, এই ধরণের জ্ঞান অবশ্যই পবিত্র আত্নার দ্বারা প্রকাশিত হতে হবে। এই ধরণের জ্ঞানই পৌলের শিক্ষার মূল বিষয়, এবং এই ধরণের জ্ঞান কেবলমাত্র আত্নার দ্বারাই এবং নূতন জন্মের মাধ্যমেই পাওয়া যায় (১ করিন্থীয় ১:১০-২:১৬)।
করিন্থীয়দের দলাদলির কারণে পৌল হতাশ ছিলেন কারণ তারা আত্নিক লোক ছিলেন যারা খ্রীষ্টের উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন এবং তাদের এই সমস্ত কিছুই জানা উচিত ছিল (প্রেরিত ১৮:১-১১ পদ দেখুন)। কিন্তু, আজকের শাস্ত্রাংশে পৌল বলেন, তিনি তাদেরকে আত্নিক লোক হিসাবে আখ্যায়িত করতে পারছেন না, “বরং পাপ-স্বভাবের অধীন লোক, খ্রীষ্টেতে শিশু” হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন (১ করিন্থীয় ৩:১)। তাদের সাথে তার µzশেতে ঈশ্বরের জ্ঞানের সত্য আলোচনা করার কথা না, কেননা সেটা ছিল আত্নিক দুগ্ধ, যা তিনি মণ্ডলী স্থাপনের সময়ই তাদেরকে দিয়েছিলেন। প্রেরিত, তাদেরকে সেই দুগ্ধ দিয়েছিলেন- যা মূলত মূল শিক্ষা- যখন তিনি সশরীরে তাদেরকে পরিচর্যা করেছিলেন কারণ সেই সময় তারা কঠিন খাবার, যা সুসমাচারের গভীর বিষয়, খাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। দুঃখের বিষয় হলো, যখন পৌল ১করিন্থীয় পত্রটি লিখেন, তখনও তারা কঠিন খাবার খাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না, যদিও তাদেরকে এই বিষয়ের জন্য প্রস্তুত থাকার উচিত ছিল। (পদ). এটা কোন সহজাত অক্ষমতা ছিল না, অন্যথায় পৌল করিন্থীয় পত্রাবলী জুড়ে তার হতাশা ব্যক্ত করতেন না। করিন্থীয়রা অক্ষম ছিলেন কারণ তারা জাগতিক থাকাকেই বেঁছে নিয়েছিলেন এবং সুসমাচারের গভীর শিক্ষা যা তারা যা গ্রহণ করেছিলেন তার অধিকতর বেশী ছিল তার জন্য অপ্রস্তুত ছিলেন (৩-৪ পদ)। জন খ্রীসোষ্টোম মন্তব্য করেছেন, “করিন্থীয়দের কঠিন খাবার গ্রহনের অক্ষমতা সহজাত ছিল না, কিন্তু তা তারা নিজেরাই বাঁছাই করে নেননি, তাই তাদের অজুহাত দেওয়ার সুযোগ নাই।”
পরিশেষে, আত্নিক দুগ্ধ এবং কঠিন খাবারের মধ্যে পার্থক্য হলো মাত্রার, ধরণের নয়। অন্যথায় পিতর করিন্থীয়দের পরিপক্কতার সমস্ত পর্যায়ে উন্নীত হওয়ার জন্য ঈশ্বরের সেই অমিশ্রিত পারমার্থিক দুগ্ধের জন্য আকাংখা করতে আদেশ করতেন না (১ পিতর ২:২)। আত্নিক দুধ (বিশ্বাসের প্রাথমিক বিষয়) এবং কঠিন খাবার (সুসমাচারের গভীর বিষয় এবং প্রয়োগ) উভয়ই খ্রীষ্ট সমন্ধে, যেমন জন কেলভিন মন্তব্য করেছেন। আমরা সুসমাচারের বাইরে বৃদ্ধি পাই না, কিন্তু আমরা এর মধ্যে বৃদ্ধি পাই। করিন্থীয়রা এর মধ্যে বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়কে বেঁছে নেয় নি। আসুন আমরা তাদের ভুলকে পুনরাবৃত্তি না করি।
ঈশ্বরের মুখ
চার্লস হগ আজকের শাস্ত্রাংশের উপর মন্তব্য করেছেন, “সমস্ত কিছু যা ঈশ্বর প্রকাশ করেছেন তা প্রত্যককেই সে যত তাড়াতাড়ি যতটুকা গ্রহণ করতে পারে তাকে ততটুকু শিক্ষা দিতে হবে।” আধ্যাত্নিক কঠিন খাবার বিশ্বাসের নিগুরতত্ব বা গোপন জ্ঞানের বিষয় নয়। এটা খুবই সাধারণ যা প্রকাশ্যে প্রকাশিত হয়েছে কিন্তু প্রথমে যা প্রয়োজন তা হলো অন্যান্য মতবাদ সমন্ধে বোঝা। আসুন, আমরা জ্ঞানের মুল বিষয়কে ধারণ করি যেন আমরা সুসমাচারের গভীর সত্যকে জানতে পারি।
এই প্রবন্ধটি মূলতঃ লিগনিয়্যার মিনিস্ট্রিজ ব্লগে প্রকাশিত হয়েছিল।
