
যা লেখা আছে তার বাইরে না যাওয়া
12-03-2026
আগুনের মধ্যদিয়ে পরিত্রাণ
26-03-2026নূতন জন্মের রহস্য
“ বায়ু যে দিকে ইচ্ছা করে, সেই দিকে বহে, এবং তুমি তাহার শব্দ শুনিতে পাও; কিন্তু কোথা হইতে আইসে, আর কোথায় চলিয়া যায়, তাহা জান না; আত্মা হইতে জাত প্রত্যেক জন সেইরূপ।” (৮ পদ ৮)।
যোহন ৩:৩ পদে এই বিষয়টি যীশু আমাদের পরিষ্কার করেছেন যে, যদি আমরা ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করতে চাই এবং অনন্ত জীবন লাভ করতে চাই তবে অবশ্যই আমাদেরকে নূতন জন্ম গ্রহন করতে হবে (যোহন ৩:১-৩). এর অর্থ হলো, যেমন আমরা দেখেছি, খ্রীষ্টিয়ান পরিবারে জন্মেছি বলেই কিন্তু আমরা খ্রীষ্টিয়ান হই না। বস্তুত, নতূন জন্ম- পুনর্জন্ম হলো একটি আত্নিক বাস্তবতা। পবিত্র আত্না আমাদের অন্তকরণকে পরিবর্তন করলেই কেবল আমরা সুসমাচারে বিশ্বাস আনতে পারি। আমাদেরকে অবশ্যই আমাদের কঠিন কঠিন অন্তকরণ যা আদমে মৃত তা খ্রীষ্টেতে প্রতিস্থাপিত করার জন্য মাংসর জীবন্ত অন্তকরণকে গ্রহণ করা উচিত (যিহিষ্কেল ১১:১৯-২০; রোমীয় ৫:১২-২১)।
আমাদেরকে অবশ্যই ঈশ্বরের আত্না দ্বারা আবার জন্ম গ্রহণ করতে হবে এর অর্থ বোঝার মানে এই যে, আমরা আমাদের হৃদয়ের গভীরে সত্যিকারে জানি যে তিনি কিভাবে আমাদের জন্য পরিত্রাণ সাধন করেছেন। বস্তুত, আমাদের জীবনে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে আত্নার কাজ রহস্যময়। আমরা পবিত্র আত্নার বাস্তবতা সম্পর্কে জানি তথাপি তিনি যেসমস্ত কাজ করেন আমরা তাঁর সমস্ত কিছু বুঝতে পারি না। পবিত্র আত্না যেভাবে আমাদের হৃদয়ের গভীরে অদৃশ্যভাবে কাজ করেন এটা বিশেষভাবে এক্ষেত্রেও সমানভাবে সত্য। যোহন ৩:৪-৮, পদে যীশু এ সমন্ধে আমাদেরকে বিস্তারিতভাবে বলেছেন, বিশেষভাবে ৮ পদ এ সমন্ধে বলেছেন। যীশু বাতাসের বহমানতার সাথে সহজেই পবিত্র আত্নার চলাচলকে তুলনা করেছেন, যেহতু “বাতাসের” জন্য ব্যবহৃত হিব্রু শব্দ (রূওয়া) এবং গ্রীক শব্দ “নিউমা” সেই একই শব্দ “আত্নার” জন্যও ব্যবহৃত হয়েছে। নিউমা বা আত্নার কাজ বাতাসের মতোই, যেহেতু উভয়ই অদৃশ্য, মূলত অপ্রত্যাশিত, এবং অপ্রতিরোধ্য।
যদিও আমরা গাছের ডাল পালার আন্দোলন, উঁচু ঘাসের দোলখাওয়া, এবং পাতার নড়াচরার মধ্যদিয়ে বাতাসের প্রভাব দেখতে পাই, আমরা বাতাসকে দেখতে পাই না। যদিও আমরা বাতাসকে দেখতে পাই না এই বিষয়টি বাতাসের বাস্তবতাকে কম বাস্তবতায় এবং অপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালীতে পরিনত করে না। এই বিষয়টি পবিত্র আত্নার ক্ষেত্রেও সমানভাবে সত্য। পবিত্র আত্না কখন কাকে একটি নূতন হৃদয় দান করেন আমরা কেউই আমাদের চোখে সেই ক্ষণকে পর্যবেক্ষণ করতে পারি না। তিনি কিভাবে এই কাজটি করেন তা কেউই সঠিকভাবে বর্ণনা করতে পারে না। তবুও পবিত্র আত্না একজন ব্যক্তির মধ্যে যে প্রভাব বিস্তার করেন আমরা সেই পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করতে পারি।
পবিত্র আত্নার কাজ আরও পরিষ্কারভাবে দেখা যেতে পারে আত্নার ফলের মধ্যে যা তিনি তাঁর লোকদের মধ্যে উৎপন্ন করেন (গালাতীয় ৫:২২-২৩)। প্রেম, আনন্দ, শান্তি, সহ্য গুণ, দয়ার স্বভাব, বিশ্বস্ততা, নম্রতা, এবং নিজেকে দমন- যারা নূতন জন্ম প্রাপ্ত হয়েছে এই ফলগুলো সেই লোকদের জীবনে আমরা আরও বেশী করে দেখতে পাব। সকল ফলই একই পরিমানে উপস্থিত থাকে না, কিন্তু সমস্ত ফলই পরিমান অনুসারে উপস্থিত থাকে। আত্নিক বিষয়ের ক্ষেত্রে যারা নূতন জন্ম প্রাপ্ত হয় নাই তারা কোন ফল ধারণ করে না। অধিকন্তু, আমরা যে ফলগুলো দেখি এই জীবনে কোনটাই নিঁখুত নয়, কেননা আমাদের গৌরবান্বিত হওয়ার আগ পর্যন্ত আমাদের মধ্যে পাপ বাস করে (১ যোহন ১:৮-৯)। কিন্তু ফলগুলো সত্যিকারে উপস্থিত থাকে। আমাদের জীবনে এই গুণাবলীগুলোর উপস্থিতি নূতন জন্মের মাধ্যমে যে পরিবর্তন ঘটে তার বন্তুনিষ্ঠ প্রমান সরবরাহ করে।
ঈশ্বরের মুখ
ঈশ্বরের মুখখ্রীষ্টিয়ানদের তাদের জীবনে আত্নার ফলের দিকে দৃষ্টি রাখা উচিত। একই সময়ে, আমরা ভীত হব না যখন আমরা উপলদ্ধি করি, আমরা যে ফল উৎপন্ন করি তা প্রায়শই অপরিপক্ক। আমরা ফলের উপস্থিতি অন্বেষণ করি, ফলের পরিপক্কতার নয়। সেই সাথে, পরিত্রাণ পাওয়ার আশায় নয় কিন্তু আমরা খ্রীষ্টেতে আছি এবং আমরা তাঁর রাজ্যের নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসাবেই সেই সমস্ত জিনিষের অন্বেষণ করি।
এই প্রবন্ধটি মূলতঃ লিগনিয়্যার মিনিস্ট্রিজ ব্লগে প্রকাশিত হয়েছিল।