
মণ্ডলীর একমাত্র ভিত্তি
05-03-2026
যা লেখা আছে তার বাইরে না যাওয়া
12-03-2026মিথ্যা জ্ঞান
“কেহ আপনাকে বঞ্চনা না করুক। তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি যদি আপনাকে এই যুগে জ্ঞানবান বলিয়া মনে করে, তবে সে জ্ঞানবান হইবার জন্য মূর্খ হউক। যেহেতু এই জগতের যে জ্ঞান, তাহা ঈশ্বরের নিকটে মূর্খতা। কারণ লেখা আছে, “তিনি জ্ঞানবানদিগকে তাহাদের ধূর্ততায় ধরেন।” পুনশ্চ, “প্রভু জ্ঞানবানদের তর্কবিতর্ক জানেন যে, সেই সকল অসার ”।
ঈশ্বরের কাছ থেকে যে সত্য জ্ঞান আসে শাস্ত্র তা মহা গুরুত্ব দেয়। সত্য জ্ঞানের শিকড় এবং উৎস হলো সদা প্রভুর উপর ভয়, এবং এটাকে অবশ্যই সোনা এবং রোপা থেকে বেশী গুরুত্ব দিতে হবে (হিতোপদেশ ১:৭; ১৬:১৬)। সত্যিকারের এই জ্ঞান ঈশ্বরের উপর এবং তাঁর বাক্যের উপর নম্রভাবে নির্ভরতার মধ্যদিয়ে, তাঁর পথ সর্বদাই সঠিক পথ তা বিশ্বাসের মধ্যদিয়ে আসে। পৌল এই জ্ঞানকে “ঈশ্বরের নিগুঢ়তত্ব,” হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন, যা µzশের আপত দুর্বলতার মধ্যদিয়ে সবচেয়ে উচ্চতর উপায়ে প্রকাশিত হয়েছে, যা পরিত্রাণ হেতু ঈশ্বরের ক্ষমতা ( ১: ১৮-২:১৬)।
অন্যদিকে, জগতের মিথ্যা জ্ঞান, জগতের উপায়ে ক্ষমতা লাভ এবং কর্তৃত্বের জন্য আত্ন-নির্ভরশীলতার কাজের উপর নির্ভর করে। এমন মিথ্যা জ্ঞান ১ম শতাব্দির করিন্থীয় মণ্ডলীকে জর্জরিত করেছিল, যেখানে মণ্ডলীর ক্ষমতা লাভের জন্য বিশ্বাসীগণের বিভিন্ন দলাদলি ব্যক্তিগত দলের লোকদের কাছে আবেদন সৃষ্টি করতো (১:১০-১৭)। অনেক দিক থেকে, এই জাগতিক জ্ঞানের উপাখ্যান অন্যদেরকে সেবা করার পরিবর্তে তাদের উপরে আমাদের নিজেদেরকে উচ্চীকৃত করার আমাদের সংযোগগুলোকে ব্যবহার করে গঠিত হয়। মণ্ডলীতে এর কোন স্থান নাই। দুঃখের বিষয় হলো, যাইহউক, মণ্ডলীগুলো খুব প্রায়ই স্বার্থপর ব্যক্তিদের দ্বারা যারা ক্ষমতার জন্য সম্পর্কগুলোকে ব্যবহার করে তাদের দ্বারা “গঠিত” এবং “ধ্বংসিত” হয়। এর চেয়েও দুঃখের বিষয় হলো, আমরা প্রায়ই তাদেরকে এমন করতে দিই। আমরা ভালভাবে যুক্ত থাকতে এবং সুযোগ প্রাপ্ত হতে চাই, তাই আমরা নিজেরা হয়তো করিন্থীয়দের অনুকরণ করি অথবা ক্ষমতাধর, ক্যারিসমেটিক বা প্রতিভাবান লোকদের দ্বারা কৃত মণ্ডলী ধ্বংসকারী পাপগুলোকে উপেক্ষা করি। এমন করার মাধ্যমে, আমরা মনে করি যে আমরা জ্ঞানী হচ্ছি, অথবা কমপক্ষে আমরা যে কোন ক্ষতি সংগঠিত হওয়াকে হ্রাস করতে সক্ষম হবো।
এটা হওয়া উচিত নয়। পৌল যেমন আজকের শাস্ত্রাংশে বলেন, আমরা যদি মিথ্যা, জাগতিক জ্ঞানের সহিত মণ্ডলীতে নিজেদেরকে পরিচালনা করি, যদি আমরা মনে করি যে, আমরা ঈশ্বরের দৃষ্টিতে সফল হতে পারি, তাহলে আমরা নিজেদেরকে ঠকাই। প্রেরিত ইয়োব ৫:১৩ এবং গীতসংহিতা ৯৪:১১ থেকে যে D×…wZ দিয়েছেন তাও জগতের জ্ঞানের বিরুদ্ধে আর একটি সর্তকবানী। এমন জ্ঞান কিছু সময়ের জন্য মণ্ডলীকে সফল করে তুলতে পারে বলে মনে হতে পারে কিন্তু এটা আমাদেরই বিরুদ্ধে যাবে। ঈশ্বর জগতের জ্ঞান যে মুর্খতা এবং অসারতা তা দেখিয়ে আমাদেরকে আমাদের ধূর্ততায় ধরবেন (১ করিন্থীয় ৩:১৯-২০)।
আমাদের একমাত্র উপায় হলো মাণ্ডলীক জীবনে ঈশ্বরের উপায়গুলোকে আলিঙ্গন করার দ্বারা জগতের কাছে বোকা হওয়া। (১৮ পদ)। এর অর্থ হলো সমস্ত কিছুতে খ্রীষ্টকে আমাদের আদর্শ হিসাবে দেখা, µzশের মধ্যদিয়ে তাঁর দিকে এবং তাঁর বাক্যে দৃষ্টি দেওয়া এবং সমস্ত “জ্ঞানকে” পর্যবেক্ষন করা। জন কেলভিন মন্তব্য করেন, John Calvin comments, “প্রেরিত দাবী করেন না যে, আমাদের মধ্যে স্বভাব জাতভাবে যে জ্ঞানগুলো পেয়েছি বা দীর্ঘ অনুশীলণের মাধ্যমে অর্জন করেছি তা আমরা একসাথে পরিত্যাগ করি, তার চেয়ে তিনি বলতে চাচ্ছেন যে, আমরা যেন তাঁর বাক্যের মাধ্যমে এই জ্ঞানগুলোকে ঈশ্বরের সেবা কাজে এমনভাবে সমর্পণ করি যেন মনে হয় যে আমাদের কোন জ্ঞানই নাই।”
ঈশ্বরের মুখ
কেলভিন যেমন উল্লেখ করেছেন, ঈশ্বরীয় জ্ঞান মুলত আমরা এই জগতে জীবন যাপন করার সময় যে জ্ঞানগুলো আরোহন করি তা সম্পূর্ণভাবে পরিত্যাগ বা অস্বীকার করে না। মূলত, সৃষ্টির ধারাবাহিকতার মধ্যে ঈশ্বর নিজেকে প্রকাশ করেছেন (গীতসংহিতা ১৯)। যাইহউক, মণ্ডলীর অভিজ্ঞতা থেকে আমরা যে জ্ঞান অর্জন করি তা প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে আমাদেরকে সর্বদাই সর্তক থাকতে হবে। আসুন যাহা কিছু µzশের পথের সাথে যায় না তা পরিত্যাগ করে, আমরা এটা খ্রীষ্টের কাছে এবং তাঁর বাক্যের কাছে সমর্পণ করি।
এই প্রবন্ধটি মূলতঃ লিগনিয়্যার মিনিস্ট্রিজ ব্লগে প্রকাশিত হয়েছিল।