
প্রভুতে অনেক মঙ্গলবাদ
10-07-2025
মৃতেরা যদি উত্থাপিত না হয়
14-08-2025পৌলের যাত্রা পরিকল্পনা
১ করিন্থীয় ১৬:৪-৯
“কিন্তু পঞ্চাশত্তমী পর্যন্ত আমি ইফিষে আছি; কারণ আমার সম্মুখে এক দ্বার খোলা রহিয়াছে, তাহা বৃহৎ ও কার্যসাধক; আর বিপক্ষ অনেক” (৮-৯ পদ)।
করিন্থীয় মণ্ডলীর প্রতি পৌলের প্রথম পত্রের শেষ দিকে এসে, তিনি করিন্থীয়ের বিশ্বাসীদেরকে তার যাত্রার পরিকল্পনা এবং যিহুদায় কষ্টে থাকা খ্রীষ্টিয়ানদের দারিদ্রতা লাগবের জন্য যে দান সংগৃহীত হয়েছে তা কিভাবে দেওয়া হবে সেই বিষয়ে তাদেরকে জানতে দিয়েছেন। আমরা এটা ১ করিন্থীয় ১৬:১-৩ পদে দেখতে পাই, যেখানে প্রেরিত, একসময় করিন্থে উপস্থিত হয়ে, যারা যিরুশালেমে এই অনুদান নিয়ে যাবে তাদের সাথে একটি সুপারিশ পত্র প্রেরণের কথা দিয়েছিলেন। মুলত, এই সুপারিশপত্র প্রমান করবে যে, অনুদান অন্যান্য বিশ্বাসীদের কাছ থেকে আসছে। যাই হউক, আজকের শাস্ত্রাংসে আমরা যেমন দেখতে পাই, পৌল উল্লেখ করেছেন যে, তিনি দেশের মধ্যদিয়ে যাত্রা করবেন “যদি যাওয়া উপযুক্ত হয়” (৪ পদ)। প্রাচীন যুগে যাত্রা করা ছিল প্রায়ই বিপদজনক, বিশেষভাবে, মোটা অংকের টাকা পরিবহনের ক্ষেত্রে। অধিকন্তু, পৌলের উপস্থিতি যারা টাকা বহন করছেন এবং যে খ্রীষ্টিয়ানগন টাকা গ্রহণ করছেন তাদের উভয়ের জন্যই স্বস্তির বিষয় হতো, তার উপস্থিতি এই উপহারের সঙ্গে প্রৈরেতিক গুরুত্ব সংযোজন করতো। সেই সময়ে ১ করিন্থীয় পত্রটি লেখা হয়েছিল, তখনও পৌল টাকা বহনকারী লোকদের সঙ্গে যাওয়ার জন্য মনস্থির করেন নি। যাই হউক, পৌল যে সময়ে রোমীয় পত্রটি লিখেন, তখন তিনি বহনকারীদের সঙ্গে সঙ্গী হওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন (রোমীয় ১৫:২৫-২৬ পদ দেখুন)।
আজকের শাস্ত্রাংশ প্রেরিত ১৯:১-২০:৫ পদের সাথে মিলে, যা উল্লেখ করে যে যখন পৌল ইফিষে ছিলেন তখন মাকিদনিয়াতে যাওয়ার আগে তিনি ১ করিন্থীয় পত্রটি লিখেছিলেন। পৌল উল্লেখ করেছেন যে, ইফিষে থাকার পরে তিনি মাকিদনিয়া এই দুই শহরের মধ্যদিয়ে করিন্থীয়তে যেতে চান (১ করিন্থীয় ১৬:৫-৯)। যাই হউক, ২ করিন্থীয় ১:১৫-১৮ পদ যেমন উল্লেখ করে, পৌল তার যাত্রার পরিকল্পনা পরিবর্তনের বিষয়ে চিন্তা করেছেন, এবং তিনি মাকিদনিয়ার আগে করিন্থীয় পরিদর্শন করছেন। (প্রেরিতদের কার্যাবলীতে এই বিষয়ে লেখা নাই)। তিনি পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছিলেন কারণ যেমন ১ করিন্থীয় ১৬:৭ পদ উল্লেখ করে, তিনি জানতেন যে তার ইচ্ছা একমাত্র তখনই সিদ্ধ হবে যদি প্রভু এটাতে অনুমতি দেন।
আমাদের পরিকল্পনার সফলতা ঈশ্বরের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে এটাই আজকের অধ্যয়নের মূল শিক্ষা। আমরা অবশ্যই পরিকল্পনা করব, কিন্তু আমরা সেগুলোকে হালকাভাবে ধরে রাখব, কেননা সেগুলোর সফলতা সম্পূর্ণভাবে ঈশ্বরের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে। “যদি ঈশ্বর অনুমতি দেন” এই বাকাংশ্যের উপর মন্তব্য করতে গিয়ে জন কেলভিন বলেছেন, এই ধারণা নিয়ে, বিশ্বাসীদের তাদের পরিকল্পনা এবং বিবেচনাকে অনুসরণ করা উচিত, কেননা ভবিষতের অনেক বিষয়ে কাজ করা এবং নির্ধারণ করা মহা ব্যস্ততার একটি উদাহরণ, যেখানে এক মুহুর্তের উপরও আমাদের ক্ষমতা নাই। পরে তিনি যুক্তি দেন যে আমাদের মনকে অবশ্যই এই বিষয়ে স্থিরিকৃত করতে হবে কিন্তু আমাদের কথা বার্তায় “ঈশ্বরই অনুমতি দেন” এই ধরণের বাকাংশ্যের ব্যবহার সত্যকে আরও দৃঢ় করার একটি সাহায্যকারী উপায় হতে পারে অর্থাৎ আমরা যা কিছু করি তা শুধুমাত্র প্রভুর অনুমতির দ্বারা করি।
ঈশ্বরের মুখআমরা যখন আমাদের পরিকল্পনাগুলো প্রণয়ণ করি তখন “প্রভুর ইচ্ছা,” “যদি প্রভুর ইচ্ছা হয়,” “ঈশ্বরের অনুগ্রহের দ্বারা,” “প্রভু যদি অনুমতি দেন,” এবং এমন ধরণের আরও অন্যান্য বাকাংশগুলো বলা সাহায্যকারী। সেগুলো আমাদেরকে ঈশ্বরের কেন্দ্রীয় শাসন বিষয়ে এবং তিনি একাই যে সমস্ত কিছু নিয়ন্ত্রন করেন সেই সমস্ত বিষয়ে সচেতন থাকতে সাহায্য করে। যাই হউক, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সত্যিকারে বিশ্বাস করা যে আমাদের পরিকল্পনাগুলো কেবলমাত্র ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুসারেই সিদ্ধ হয়। আসুন আমরা সর্বদা এই সত্যের উপর নির্ভর করি।
এই প্রবন্ধটি মূলতঃ লিগনিয়্যার মিনিস্ট্রিজ ব্লগে প্রকাশিত হয়েছিল।


