
ঈশ্বরের মন্দির ধ্বংস করা
02-04-2026আমরা কার
১করিন্থীয় ৩:২১-২৩
“অতএব কেহ মনুষ্যদের শ্লাঘা না করুক। কেননা সকলই তোমাদের; পৌল, কি আপল্লো, কি কৈফা, কি জগৎ, কি জীবন, কি মরণ, কি উপস্থিত বিষয়, কি ভবিষ্যৎ বিষয়, সকলই তোমাদের; আর তোমরা খ্রীষ্টের, ও খ্রীষ্ট ঈশ্বরের।.”
প্রথম করিন্থীয় ১:১০-৩:২৩ পদগুলো হলো মণ্ডলীতে জাগতিক বিভাজনের বিরুদ্ধে একটি দীর্ঘ আলোচনা। পৌল যুক্তি দিয়েছেন যে, মণ্ডলীতে কর্তৃত্ব এবং খ্যাতির জন্য আমাদেরকে আমাদেরকে প্রভাব এবং সম্পর্কগুলো ব্যবহার করা উচিত নয় কারণ তা স্বর্গীয় জ্ঞানের সাথে সাংঘর্ষিক, যা µz‡ki আত্ন-ত্যাগের দুর্বলতায় স্বর্গীয় ক্ষমতাকে প্রদর্শণ করে। (১:১০-৩১)। কেহই নিজ থেকে এই জ্ঞানকে বিশ্বাস করতে বা শিখতে পারে না, কননা এটা পবিত্র আত্নার দ্বারাই প্রকাশিত হয় (২:১-১৬)। এই বার্তা ঘোষনার মধ্যদিয়েই ঈশ্বর তাঁর মণ্ডলী গঠন করেন, যা যিহুদী এবং পরজাতীয়দের জন্য বিঘ্নজনক। জগত এই বিষয়কে মূর্খতা হিসাবে দেখে, কিন্তু আমরা যদি জগতের পথকে অনুসরণ করি, আমাদের চেষ্টা নিষ্ফল হবে, যেহেতু ঈশ্বর জগতের এই জ্ঞানকে মূর্খতায় পর্যভুষিত পর্যবসিত করবেন (৩:১-২০)।
কেন আমরা কর্তৃত্ব এবং খ্যাতি চাই সেই বিষয়ে একটি প্রমাণ দিয়ে এবং কেন আমাদের অর্ধামিক উপায়ে এমন বিষয় লাভের চেষ্টা করা উচিত নয় একটি ধর্মতাত্বিক ব্যাখ্যা দিয়ে পৌল তার বক্তব্যের সারাংশ করেছেন। সকল লোকই, এমন কি খ্রীষ্টিয়ানরাও কর্তৃত্বের অন্বেষণ করেন, অথবা কমপক্ষে মূল্যায়িত এবং স্বীকৃত হতে চাই, কারণ ঈশ্বর সেই সমস্ত বিষয়ের জন্য আাদেরকে তৈরী করেছেন। ঈশ্বর সৃষ্টির উপর কর্তৃত্ব দিয়ে মানুষকে তাঁর প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি করেছেন (আদিপুস্তক ১:২৬-২৮)। গৌরবের জন্য এবং সুষ্টির তত্ত্ববধান করার জন্যই আমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এদন বাগানে আদম এই গৌরবকে নষ্ট করেছিল, এবং সেই সময় থেকেই আমরা এটাকে ফিরে পাওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সম্মানের জন্য, মু্ল্যের জন্য, গৌরবের জন্য, এবং কর্তৃত্বের জন্য আকাংখা করা সহজাতভাবে মন্দ নয়। সমস্যা হলো এই যে, পাপ এই আকাংখাকে ভাঁজ দিয়েছে। আমরা গৌরব, কর্তৃত্ব, খ্যাতি, এবং মর্যাদার অন্বষণ করি- যেসমস্ত বিষয়গুলোর মধ্যে দায়বদ্ধতা রয়েছে- আমরা এগুলো অন্যদের সেবা করার জন্য নয় কিন্তু তাদের উপর নিজেদেরকে প্রভুত্ব করার জন্য এবং এমন কি ঈশ্বরকে প্রতিস্থাপন করার জন্য চাই।
পরিত্রাণ আমাদের কাছ থেকে এই আকাংখাগুলো কেড়ে নেয় না, কিন্তু পবিত্র আত্না এটাকে আরও বেশী করে পবিত্রকরণ করে। তবুও যেহেতু আমাদের মধ্যে পাপ থাকে, আমরা অধ্যার্মিক উপায়ে সেই সমস্ত জিনিস লাভের জন্য আকাংখা করি, এমন কি মণ্ডলীর মধ্যেও। আমরা ব্যক্তিগত লাভের জন্য ব্যক্তিগত প্রভাব এবং সম্পর্কগুলোকে অপব্যবহার করতে চেষ্টা করি। এমন করা মুর্খতা, যাই হউক, এমন অপব্যবহার µz‡ki পথের সাথে সাংর্ঘষিক কিন্তু এই কারণে এমন বিষয়গুলোকে আমাদের আয়ত্ব করারও প্রয়োজন নাই। সেগুলো ইতিমধ্যে খ্রীষ্টেতে আমাদের। আমরা যে বিষয়গুলো চাই সেই সমস্ত কিছুই খ্রীষ্টেতে আমরা পুনরায় অর্জণ করেছি, এমন কি যদিও সম্পূর্ণ পরিত্রাণ শেষ সময়ের জন্য অপেক্ষা করে। আমাদেরকে অর্ধামিক উপায়ে কর্তৃত্বের, গৌরবের, অবথা খ্যাতির অন্বেষন করার প্রয়োজন নাই কারণ আমরা যা চাই তা ইতিমধ্যে আমাদের আছে। এটা নিশ্চিতভাবে আমাদের আছে কারণ আমরা খ্রীষ্টের এবং তিনি ঈশ্বরের, যিনি সমস্ত কিছুর মালিক এবং যিনি এই সমস্ত কিছু আমাদেরকে দিতে সমর্থ (১ করিন্থীয় ৩:২১-২৩)।
ঈশ্বরের মুখ
খ্রীষ্টেতে আমাদের যা আছে তা যদি আমরা স্মরণ করি, যা আমরা বিশ্বাস করি তা এখনও আমাদের না থাকলেও সেই সমস্ত বিষয় লাভের জন্য আমরা কম চেষ্টা করব। আমরা খ্রীষ্টের সহকর্মী, এবং আমরা তাঁর সাথে রাজত্বও করব (২ তিমথীয় ২:১২২)। আমরা যদি বিশ্বাসে খ্রীষ্টে থাকি তাহলে আমরা যে সমস্ত কর্তৃত্ব, মর্যাদা, এবং খ্যাতি চাই সেই সমস্ত কিছুই আমাদের আছে। আসুন আমরা তা মনে রাখি, যেন আমরা সন্তুষ্টির চিত্ত এবং অন্যদেরকে সেবাপ্রদানের আকংখা নিয়ে বৃদ্ধি পেতে পারি।
এই প্রবন্ধটি মূলতঃ লিগনিয়্যার মিনিস্ট্রিজ ব্লগে প্রকাশিত হয়েছিল।