
মিথ্যা জ্ঞান
10-03-2026যা লেখা আছে তার বাইরে না যাওয়া
১ করিন্থীয় ৪:৬-৭
“হে ভ্রাতৃগণ, আমি আপনার ও আপল্লোর উদাহরণ দিয়া তোমাদের নিমিত্তে এই সকল কথা কহিলাম; যেন আমাদের দ্বারা তোমরা এই শিক্ষা পাও যে, যাহা লিখিত আছে, তাহা অতিক্রম করিতে নাই, তোমরা কেহ যেন একজনের পক্ষে অন্য জনের বিপক্ষে গর্ব না কর” (৬ পদ)।
১ করিন্থীয় ৪ অধ্যায় অধ্যয়ন করতে করতে আমরা এমন একটি অংশে উপনীত হয়েছি যা নিয়ে পন্ডিতগণ উল্লেখ করেছেন যে, এই অংশটি ব্যাখ্যা করা কঠিন। যাই হউক, ৬-৭ পদে পৌল যে বিষয়টি বলতে চাচ্ছেন, প্রেক্ষাপট স্মরণে আনলে তা আমাদেরকে বুঝতে সাহায্য করবে। ১ করিন্থীয় ১-৩ অধ্যায়ে প্রেরিত যে মূল সমস্যাটি চিহ্নিত করেছেন তা হলো, করিন্থীয় মণ্ডলীতে দলাদলি, মণ্ডলীতে কর্তৃত্ব বা পদমর্যাদা লাভের জন্য নিজের দলভারী করা। আমরা যখন ১ করিন্থীয় ৪ অধ্যায়ে উপনীত হই আমরা দেখতেই পাই যে, তারা শুধুমাত্র বলেন নি যে একজন প্রেরিত বা খ্রীষ্টের দাসকে জানা- তিনি হতে পারেন পিতর, আপল্লো, বা অন্য কেউ- একটি বিশষ দলকে অন্যদের চেয়ে বেশী অধিকার দেয় না। বস্তুত তারা এই উল্লেখ্যযোগ্য ব্যক্তিদরকে একে অন্যের বিরুদ্ধে দাঁড় করাচ্ছিল। এই বিষয়টি ১ করিন্থীয় ৪ অধ্যায়ে আরও বেশী পরিষ্কার করা হয়েছে, যেখানে পৌল সেই লোকদেরকে প্রতিরোধ করেছেন, যারা তাকে অগ্রাহ্য করেছিল বা কমপক্ষে তার প্রেরিতত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল।
৬ পদে পৌল বিশেষভাবে আপল্লোকে উল্লেখ করেছিলেন, কেননা পৌলের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠিন বিরোধীতা হয়তো যারা নিজেদেরকে আপল্লোর দলের লোক হিসাবে দাবী করেছিল তাদের কাছ থেকে এসেছিল। প্রেরিত ১৮:২৪-২৮ পদে প্রথম উল্লেখ করা হয়েছে যে, আপল্লো একজন সুবক্তা এবং বিজ্ঞ শিষ্য ছিলেন। যদি তাই হয়, তারা হয়তো পৌলকে অগ্রাহ্য করছিলেন কারণ তিনি এপল্লোর মতো এত সুন্দর সাবলীলভাবে কথা বলেন নি (১ করিন্থীয় ১:১৭ পদ)। কিন্তু পৌলের বিপক্ষে আপল্লোকে দাঁড় করানোটা ছিল ভুল, এটা শুধুমাত্র এই কারণে নয় যে, মণ্ডলীতে কর্তৃত্ব লাভের জন্য ব্যক্তিগত দলের লোকদেরকে ব্যবহার করা জাগতিক, কিন্তু এই কারণেও কারণ পৌল এবং আপল্লো উভয়ই ছিলেন দাস এবং অধ্যক্ষ। এটাই ছিল ১ করিন্থীয় ৪:৬ পদে পৌলের ফলপ্রসূ যুক্তি। সকল বিশ্বাসীগণ- এবং পরিচর্যাকারীগণ, প্রাচীন, এবং বিশেষভাবে শিক্ষকগণ- ঈশ্বরের দাস, যেমন প্রেরিত ১-৫ পদ আমাদেরকে বলেছেন। কাউকেই অন্যের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো উচিত হবে না, যখন তারা বিশ্বস্তভাবে তাদের কাজ করেন।
যারা এমন করেন তারা “যা লেখা আছে তার বাইরে যায়” (৬ পদ)। এই বিষয়ে পৌলের উদ্ধৃতি হলো শাস্ত্র, সম্ভবত তা বিশেষভাবে ১ করিন্থীয় ১:২৯; ২:৯ এবং ৩:১৯-২০ পদে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই শাস্ত্রাংসগুলো এটাকে পরিষ্কার করে যে, ঈশ্বর তাঁর দাসদের মধ্যে থাকা জাগতিক জ্ঞানকে বা তাদের শিক্ষা বা কাজের মধ্যে যেকোন কিছু যা তাঁর লোকদেরকে রক্ষা করার জন্য তিনি যে উপায় বেঁছে নেন, ঈশ্বরের সেই সার্বোভৌম্য কাজকে অস্বীকার করে তিনি এমন কোন কাজকে পুরষ্কৃত করেন না। কিন্তু আমরা যখন যারা একই বার্তা ঘোষনা করেন তাদেরকে একে অন্যের বিরুদ্ধে দাঁড় করাই কারণ একজন অন্যজনের চেয়ে বেশী প্রতিভাবান, আমরা ভুলে গেছি যে ঈশ্বর তাঁর দাসদের প্রতিভার মধ্যদিয়ে পরিত্রাণ করেন না কিন্তু ক্রুশের বানীর মধ্যদিয়ে করেন। একজন পরিচর্যাকারীকে অন্য জনের উপরে বিবেচনা করা হলো যা লেখা আছে তার বাইরে যাওয়া কারণ এর অর্থ হলো আমরা শিক্ষকগণকে দাস এবং অধ্যক্ষগণকে যেমন দাস হিসাবে দেখা উচিত তা আমরা দেখছি না। পরিবর্তে, আমরা সুসমাচারের বদলে তাদের উপর গৌরব দিতে শুরু করি।
ঈশ্বরের মুখ
আজকের শাস্ত্রাং‡kর উপর চালর্স হগ মন্তব্য করেন, করিন্থীয়দের তাদের পরিচর্যাকারীদের বিষয়ে বাইবেল তাদেরকে যেভাবে গন্য করার জন্য স্বীকৃত দিয়েছিল তার চেয়ে বেশী উচ্চ মনে করা উচিত ছিল না”| আসুন আমরা মণ্ডলীতে অন্য বিশ্বাসীদেরকে বিশেষভাবে, আমাদের নেতাদের এবং শিক্ষকদের সম্মান এবং মর্যাদা দিই। অন্যদিকে, আমাদেরকে আমাদের হৃদয়ে এবং মনে গোঁড়াপন্থী শিক্ষকদেরকে একে অন্যের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর সাহস দেখানো ঠিক হবে না। বরং, আসুন আমরা তাদের সকলকেই দাস হিসাবে সম্মান দিই এবং তাদের জন্য ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ থাকি।
এই প্রবন্ধটি মূলতঃ লিগনিয়্যার মিনিস্ট্রিজ ব্লগে প্রকাশিত হয়েছিল।