5 Things You Should Know About Adoption

দত্তকত্ব সম্বন্ধে যে ৫টি বিষয় আপনার জানা উচিত

09-10-2026
5 Things You Should Know About Assurance

নিশ্চয়তা সম্বন্ধে যে ৫টি বিষয় আপনার জানা উচিত রবার্ট এম. গডফ্রে

23-10-2026
5 Things You Should Know About Adoption

দত্তকত্ব সম্বন্ধে যে ৫টি বিষয় আপনার জানা উচিত

09-10-2026
5 Things You Should Know About Assurance

নিশ্চয়তা সম্বন্ধে যে ৫টি বিষয় আপনার জানা উচিত রবার্ট এম. গডফ্রে

23-10-2026

ত্রিত্বের মতবাদ সম্বন্ধে যে ৫টি বিষয় আপনার জানা উচিত

5 Things You Should Know About the Doctrine of the Trinity

১. ত্রিত্বের মতবাদ হলো খ্রিস্টীয় বিশ্বাসের অন্যতম মৌলিক মতবাদ।

ঈশ্বর সম্বন্ধে খ্রিস্টীয় মতবাদ হলো ত্রিত্বের মতবাদ, এবং ঈশ্বর সম্বন্ধে খ্রীষ্টিয়ান মতবাদ হলো অন্যান্য প্রত্যেক খ্রীষ্টিয় মতবাদের ভিত্তি। ঈশ্বরের মতবাদ ছাড়া শাস্ত্রের বাইবেলের মতবাদ আর কোন মতবাদ নাই কারণ শাস্ত্র হলো ঈশ্বরের বাক্য। মানুষকে ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি করা হয়েছে। পাপ হলো ঈশ্বরের ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। পরিত্রাণতত্ত্ব বা পরিত্রাণের মতবাদ হলো ঈশ্বরের মুক্তির কাজ সম্পর্কিত মতবাদ। মণ্ডলী হলো ঈশ্বরের লোক। পরিশেষের মতবাদ ঈশ্বরের চুড়ান্ত লক্ষ্য এবং পরিকল্পনার সাথে জড়িত। 

২. নিসিয়া মহাসভায় ত্রিত্বের মতবাদ আবিষ্কার করা হয়নি। 

ত্রিত্বের মতবাদটি চতুর্থ শতাব্দিতে নাইসিয়া মহাসভাতে তৈরী করা হয়েছিল বলে আজকাল একটি প্রচলিত ভুল ধারণা রয়েছে। এটা সত্য নয়। প্রথম শতাব্দির মণ্ডলীগুলোতে, খ্রীষ্টিয়ানরা শাস্ত্রে পাওয়া মৌলিক মতবাদগুলো শিক্ষা দিচ্ছিলেন [বা দিতেন]। শাস্ত্র শিক্ষা দেয় যে সেখানে এক এবং একমাত্র ঈশ্বরই আছেন। শাস্ত্র আরও শিক্ষা দেয় যে পিতা হলেন ঈশ্বর। শাস্ত্র শিক্ষা দেয় যে পুত্র হলেন ঈশ্বর এবং পবিত্র আত্মা হলেন ঈশ্বর। অধিকন্তু, শাস্ত্র শিক্ষা দেয় যে পিতা পুত্র নন বা আত্মা] নন, আবার পুত্র পিতা নন বা আত্মা নন, আবার শিক্ষা দেয় যে, পবিত্র আত্মা পিতা নন বা পুত্র নন। যে কেহ শাস্ত্রের এই মৌলিক মতবাদকে ধারণ করেন তারাই ত্রিত্বের মতবাদের ভিত্তিকে ধারণ করেন। শতাব্দির পর শতাব্দিধরে, এমন কিছু লোকের আবির্ভাব হয়েছে, যাদের শিক্ষা এই সমস্ত এক বা তার অধিক বাইবেল ভিত্তিক শিক্ষাকে অস্বীকার করেছে বা বিকৃতি করেছে। এমন একটি শিক্ষা- আরিয়ুসের শিক্ষা, যিনি পুত্রের ঈশ্বরত্বকে অস্বীকার করেছে তার শিক্ষার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাতেই নিসিয়া মহাসভা (কাউন্সিল অফ নাইসিয়া) আহবান করা হয়েছিল। নিসিয়া বিশ্বাসসুত্র শাস্ত্র যা নিশ্চিত করে সেই সমস্ত কিছুই যেন মণ্ডলী শিক্ষা দেয় তা নিশ্চিত করতে একটি সীমানা দিয়েছে। 

৩. ত্রিত্বের মতবাদ মানুষের পক্ষে সম্পূর্ণভাবে বোঝা সম্ভব নয়। 

ত্রিত্বের মতবাদের সাথে মাংসে মূর্তিমান হওয়ার মতবাদ, খ্রীষ্টিয় বিশ্বাসের রহস্যগুলোর মধ্যে মহান রহস্যগুলোর মধ্যে অন্যতম]। এর অর্থ হলো এই যে এটা সম্পূর্ণভাবে বুঝার সক্ষমতা সসীম মানুষের চিন্তার বাইরে। আমরা যদি ত্রিত্বের মতবাদ কিছু ধরণের গানিতিক ধাঁধা বা পাজলের মতো মনে করি, যা সমাধানের জন্য একটি সঠিক নম্বর প্রয়োজন, আমরা নিশ্চিতভাবে এক বা অন্য ধরণের ভ্রান্ত মতবাদে পড়ে যাব। ত্রিত্বের মতবাদ একটি রুবিকের ঘনকের (রুবিকস কিউব) মতো নয়। সৃষ্টির মধ্যে এমন কোন কিছু নাই যা ত্রিত্বের মতবাদের একটি সঠিক উদাহরণ হতে পারে। 

৪. অধিকাংশ জনপ্রিয় ত্রিত্বের উদারণগুলো সবচেয়ে বিভ্রান্তিকর এবং ভ্রান্ত মতবাদের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ। 

সৃষ্টির মধ্যে ত্রিত্বের মতবাদের জন্য কোন সঠিক উদাহরণ না থাকার কারণে সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয় উদাহরণগুলো সবচেয়ে বেশী ভুল পথে চালিত এবং ভ্রান্ত মতবাদের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ। অনেকেই শেষ করেছেন এভাবে বলে যে ত্রিত্বের তিন ব্যক্তি হলেন ঈশ্বরেরই তিনটি অংশ (যেমন., ডিমের কুসুম, খোসা এবং সাদা অংশের উদাহরণ), অথবা একত্ববাদী ঈশ্বরের তিনটি ভিন্ন রূপে বা ভূমিকায় প্রকাশিত হন (যেমন, পিতা, পুত্র এবং পবিত্র আত্মা “মুখোশ”;  অথবা পানি, বরফ এবং বাষ্প উদাহরণ)। কিছু কিছু উদাহরণ তাদের সর্বোচ্চতায় হয়তো ত্রিত্বের মতবাদের কিছু বিশেষ দিককে বর্ণনা করতে সক্ষম, কিন্তু তারা সকলেই সাধারণত বাইবেল ভিত্তিক শিক্ষার এক বা ততোধিক উপাদানকে অস্বীকার করে। 

৫. যীশু কে এই বিষয়ে ভুল ধারণা থেকে ত্রিত্বের মতবাদের ভুল ধারণার দিকে চালিত করে। 

মাংসে মূর্তিমান হওয়ার সময়, ত্রিত্বের দ্বিতীয় ব্যক্তি, পুত্র, একটি মানবীয় প্রকৃতি ধারণ করেন, যা স্বর্গীয় প্রকৃতির সাথে যুক্ত। মানব প্রকৃতির মধ্যে তাঁর দেহ এবং প্রাণ রয়েছে। এর অর্থ হলো প্রভু যীশু খ্রীষ্ট হলেন, ঈশ্বর-মূর্তিমান। তিনি দুটি প্রকৃতিতে একই ব্যক্তি, এবং সেই দুটি প্রকৃতি কোনরকম বিভ্রান্তি, পরিবর্তন, বিভাজন, অথবা বিচ্ছেদ ছাড়াই এক ব্যক্তি, পুত্রেতে যুক্ত। যেহেতু উভয়ই প্রকৃতিই তাঁর প্রকৃতি, সেহেতু উভয় প্রকৃতির সমন্ধে সমস্ত কিছু যা সত্য তা তাঁর সমন্ধে, একমাত্র প্রভু যীশু খ্রীষ্টের সম্বন্ধে বলা হয়েছে। তবে, তাঁর স্বর্গীয় প্রকৃতি অনুসারে তাঁর সম্বন্ধে কিছু বিষয় বলা হয়, যেমন, তিনি জগতের সৃষ্টিকর্তা) এবং কিছু বিষয় তাঁর মানবীয় প্রকৃতি অনুসারে তাঁর সমন্ধে বলেছে (যেমন., ক্ষুধার্ত বা তৃষ্ণার্ত হওয়া)। আমরা যদি খ্রীষ্টের স্বর্গীয় এবং মানবীয় প্রকৃতি সম্বন্ধে বিভ্রান্ত হই, তাহলে খুব সহজেই আমাদের ত্রিত্বের মতবাদকে বিকৃত করবে, কারণ আমরা ঈশ্বরের মধ্যে মানবীয় গুণাবলীর অন্বেষণ করব। উদাহরণস্বরূপ, বাইবেল শিক্ষা দেয় যে ঈশ্বর অমর (১তিমথীয় ৬:১৫-১৬)। অন্য কথায়, ঈশ্বর মরতে পারেন না। কিন্তু আমরা কি বিশ্বাস করি না যে যীশু ঈশ্বর? এবং যীশু কি ক্রুশে মারা যান নি? হ্যাঁ, তিনি মারা গিয়েছেন, এবং তিনি তা করেছেন তাঁর মানবীয় প্রকৃতি অনুসারে। একজন মানুষ মরতে পারে। একজন মানুষ দুঃখভোগ করতে পারে। একজন মানুষ পরিবর্তন হতে পারে। যীশু এই সমস্ত কিছু করেছেন তাঁর মানবীয় প্রকৃতিতে, কিন্তু আমরা সেই মানবীয় গুণাবলীগুলোকে স্বর্গীয় প্রকৃতিতে স্থানান্তরিত করতে পারি না। স্বর্গীয় প্রকৃতি মরতে পারে না অথবা পরিবর্তন হতে পারে না বা দুঃখভোগ করতে পারে না। অনুরুপভাবে, খ্রীষ্ট নিঁখুতভাবে তাঁর মানবীয় ইচ্ছাকে ঈশ্বরের স্বর্গীয় ইচ্ছার কাছে সমর্পন করেছিলেন, কিন্তু এর  মানে এই নয় যে পুত্রের স্বর্গীয় ইচ্ছা পিতার স্বর্গীয় ইচ্ছার কাছে সমর্পিত হয়েছিল। কেন না? কারণ কেবল একটিই স্বর্গীয় বা ঐশ্বরিক ইচ্ছা রয়েছে। পুত্রের স্বর্গীয় ইচ্ছা পিতার স্বর্গীয় ইচ্ছা একই কারণ পিতা যেমন ঈশ্বর, পুত্রও তেমনি ঈশ্বর। নিসিয়ার বিশ্বাসসুত্রের ভাষা ব্যবহার করে বলতে হয়, পুত্র হলেন পিতার সহিত একজাত (হোমোউসিওস)। যদি পুত্রের স্বর্গীয় ইচ্ছা পিতার স্বর্গীয় ইচ্ছার কাছে সমর্পিত হয়ে থাকে, তবে আমাদের আর ত্রিত্ব নাই। আমাদের আছে বহু ঈশ্বরবাদ।

এই প্রবন্ধটি মূলতঃ লিগনিয়্যার মিনিস্ট্রিজ ব্লগে প্রকাশিত হয়েছিল।

কেইথ এ, ম্যাথিসন

কেইথ এ, ম্যাথিসন

ড. কেইথ এ, ম্যাথিসন হলেন ফ্লা. সেন্ডফোর্ড এর রিফরমেশান বাইবেল কলেজের সিস্টেমেটিক থিওলজীর প্রফেসর। তিনি দ্যা লর্ড সাপার: আসনার টু কমন কুইস্চেন * *সহ অনেক বইয়ের লেখক।