
বিশ্বাসসুত্র সম্বন্ধে ৫টি বিষয় যা আপনার জানা উচিত
25-09-2026
দত্তকত্ব সম্বন্ধে যে ৫টি বিষয় আপনার জানা উচিত
09-10-2026স্বর্গ সম্বন্ধে যে ৫টি বিষয় আপনার জানা উচিত
মিউজিক থেকে চলচিত্র, বইপুস্তক এবং আরও অনেক কিছুতে, স্বর্গ হলো এমন একটি বিষয় যা মণ্ডলীর এবং জগতের উভয় লোকদেরকেই আকৃষ্ট করে তোলে। তথাপি, অনান্য আত্নিক বিষয়গুলোর সাথে, স্বর্গের ধারণা নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি রয়েছে। একমাত্র শাস্ত্রই আমাদের কাছে সত্য প্রকাশ করে। এখানে স্বর্গের বিষয়ে যে পাঁচটি বিষয় আপনার জানা উচিত তা তুলে ধরা হলোঃ
১. স্বর্গ হলো একটি স্থান
প্রেরিত ১:৬-১১ পদ আমাদেরকে বলে যে যীশু স্বর্গে আরোহন করেছেন, যা তাঁর এক স্থান (পৃথিবী) থেকে অন্য স্থানে (স্বর্গ) যাওয়া বিষয়কে ইংগিত করে। অধিকন্তু আমরা জানি যে পুনরুত্থানের পরেও যীশুর শারীরিক একটি মানব দেহ ধারণ করেছেন, যদিও তা পবিত্র আত্মার দ্বারা মহিমান্বিত ছিল (যোহন ২০:২৪-২৯; ১ করিন্থীয় ১৫)। শারীরিক বিষয় স্থান এবং সময়ের মধ্যে অবস্থান করে; অন্য কথায়, তারা একটি বিশেষ স্থানে সীমাবদ্ধ। শেষ দিনে, যীশু চুড়ান্ত পুনরুত্থান এবং বিচার নিয়ে আসার জন্য স্বর্গ থেকে নেমে আসবেন (১ থিষলনীকিয় ৪:১৬)। তার শারীরিক, গৌরবান্বিত দেহ এক স্থান (স্বর্গ) থেকে অন্য স্থানে (পৃথিবী) আগমন করবেন।
২. স্বর্গ হলো ঈশ্বরের সিংহাসনের স্থান
গীতসংহীতা প্রায়ই স্বর্গকে ঈশ্বরের সিংহাসনের স্থান হিসাবে উল্লেখ করে (গীতসংহিতা. ৯:৭; ১১:৪; ১০৩:১৯ ). যেহেতু ঈশ্বর আত্না এবং আত্মার একটি শারীরিক থাকে না (যোহন ৪:২৪), আমরা বুঝতে পারি যে এটা কিছু মাত্রায় একটা উপমা যা ইংগিত করে যে ঈশ্বর তাঁর বিশেষ শাসনের উপস্থিতিকে স্বর্গে সবচেয়ে বেশী শক্তিশালীভাবে অনুভব করান। তবে, ঈশ্বরের কোন শারীরিক দেহ নাই এমন বলাটা পুরোপুরি সঠিক নয়। যেহেতু, দুই হাজার বছরেরও বেশি আগে দেহধারণের সময় থেকে ঈশ্বরের পুত্রের একটি শারীরিক দেহ ছিল, কেননা এই মানব প্রকৃতির অংশ এক স্বর্গীয় ব্যক্তি যীশু খ্রীষ্টের মধ্যে একিভুত হয়েছে। এর অর্থ হলো, মানবদেহ ধারণের পর থেকে ঈশ্বরের সিংহাসন-সংক্রান্ত অনেক উল্লেখকেই এমন একটি প্রকৃত স্থান হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। যেখানে খ্রীষ্ট খ্রিষ্ট ঊর্ধ্বে আসীন রয়েছেন। (যেমন., ইফিষীয় ১:২০; ইব্রীয় ১:১-৩). এই সিংহাসন হলো সত্যিকারের দায়ুদের রাজ্যের সিংহাসন, যা খ্রীষ্টের জন্য চিরকালের জন্য প্রতিজ্ঞা করা হয়েছিল (লূক ১:৩২-৩৩)। অন্য কথায়, খ্রীষ্টেতে ঈশ্বর দায়ুদের রাজ্যকে তাঁর রাজ্যে পরিণত করেছেন।]
৩. স্বর্গ হলো সেই স্থান, যেখানে বিশ্বাসীদের মৃত্যুর পর তাদের আত্মা যায়।
ফিলিপীয় ১:২৩ পদে পৌল প্রত্যশা করেছিলেন যে, যখন তিনি মারা যাবেন তিনি “খ্রীষ্টের সহিত” হবেন। যেহেতু আমরা জানি যে বর্তমানে যীশু স্বর্গে উপস্থিত আছেন, এর অর্থ হলো যে, খ্রীষ্টেতে বিশ্বাসীরা যখন মারা যান তারা অবশ্যই তাঁর সঙ্গে থাকার জন্য স্বর্গে যায়। অনুরূপভাবে, ২ করিন্থীয় ৫:৬-৮ পদে পৌল আরও বলেছেন যে “দেহ হইতে দূরে” হওয়া মানে হলো “প্রভুর কাছে নিবাস করা।” আবার, যদি প্রভু যীশু খ্রীষ্ট বর্তমানে স্বর্গে উপস্থিত থাকেন, তাহলে মৃত্যুর সময় আমরা স্বর্গে থাকব। বিশেষভাবে, আমাদের আত্না, “দেহ হইতে অনুপস্থিত,” মানে স্বর্গে যায়, যেখানে আমরা পুনরুত্থানের অপেক্ষায় সচেতন অবস্থায় জীবনযাপন করতে থাকব, এবং তা উপভোগ করব। “বিশ্বাসীদের মৃত্যুতে তাদের আত্নাগুলোকে পবিত্রতায় নিখুঁত করা হয়, এবং তারা তাৎক্ষনিকভাবে মহিমায় প্রবেশ করে; এবং তাদের দেহগুলো, খ্রীষ্টের সাথে যুক্ত থেকে পুনরুত্থানের আগ পর্যন্ত কবরে বিশ্রামে অপেক্ষা করে” (WSC 37)।
৪. স্বর্গ হলো যেখানে বিশ্বাসীরা বর্তমানে খ্রীষ্টের সহিত আসিন আছেন।
যদিও বাইবেল পরিষ্কার যে বিশ্বাসীরা যখন মারা যায় তাদের আত্না খ্রীষ্টের সঙ্গে হওয়ার জন্য স্বর্গে যায়, বিশ্বাসীরা ইতিমধ্যে ঈশ্বরের সঙ্গে আসিন আছেন “স্বর্গীয় স্থানে যীশু খ্রীষ্টের সহিত” (ইফিষীয় ২:৬)। যেহেতু, বিশ্বাসীরা যারা মারা যায় নি তারা এখনও এই জগতে উপস্থিত আছেন, এটা অবশ্যই একটা অবস্থানগত বাস্তবতা। অন্য কথায়, যদিও আমরা এই মুহুর্তে শারীরিকভাবে স্বর্গে উপস্থিত নই, আমরা অনুভবে সেখানে আছি। আমাদের নিজেদেরকে মনে করতে হবে, এমন কি এই বিষয়ে আমাদের অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ উপলদ্ধি না থাকলেও যে আমরা যেন ইতিমধ্যে যীশুর ডান পাশে সাথে থেকে শাসন এবং রাজত্ব করছি । এটা পবিত্রকরণের বিষয়ে একটি মহান উৎসাহ। আমরা হয়তো এখনও জাতিগণের উপরে শাসন করছি না, কিন্তু খ্রীষ্টের সাথে, আমরা ইতিমধ্যে পাপের উপর এবং যীশুর ক্রুশের মাধ্যমে নিরস্ত্র করা শাসক ও কর্তৃপক্ষের ওপর তাঁর সঙ্গে কর্তৃত্বের আসনে বসে রয়েছি (কলসীয় ২:১৩-১৫ দেখুন)। [যখন রোমীয় ৬:১২ আমাদেরকে বলে, “অতএব পাপ যেন তোমাদের মরণশীল দেহে রাজত্ব না করে,” আমরা সত্যিকারে পবিত্র আত্নার শক্তি দ্বারা এই আদেশকে পালন করতে পারি। আমাদের উপর পাপের কোন সত্যিকারের কর্তৃত্ব নেই এবং আমরা যা সুযোগ দিই পাপ ততটুকুই আমাদের ওপর কর্তৃত্ব করতে পারে। তাই, আসুন আমরা পাপকে আমাদের উপর কর্তৃত্ব করতে না দিই।
৫. স্বর্গ চিরকাল থাকবে না।
স্বর্গের বর্তমান অবস্থান হলো, যেখানো খ্রীষ্ট তাঁর সিংহাসনে বসেন এবং বিশ্বাসীরা যারা মারা গেছেন তারা তাঁর উপস্থিতি উপভোগ করেন, ইতিহাসের পূর্ণতার দিক থেকে এটি একটি ক্ষনস্থায়ী অবস্থান মাত্র। প্রকাশিতবাক্য ২১:১-২২:৫ ব্যাখ্যা করে, একদিন, ঈশ্বর “একটি নূতন স্বর্গ এবং একটি নূতন পৃথিবী” নিয়ে আনবেন। স্বর্গ এবং পৃথিবী একত্রিত হবে, এবং সেখানে আমরা আমাদের সৃষ্টিকর্তার সাথে, তাঁর সম্মুখে চিরকাল বসবাস করব। চুড়ান্ত আশা হলো সৃষ্টির ধ্বংস নয় বরং এর সম্পূর্ণ নতুনীকরণ ও পুনরুদ্ধার] (যিশাইয় ৬৫:১৭-২৫; ২পিতর ৩:১৩ পদগুলোও দেখুন)।
এই প্রবন্ধটি মূলতঃ লিগনিয়্যার মিনিস্ট্রিজ ব্লগে প্রকাশিত হয়েছিল।


