
মোশি সম্বন্ধে ৫টি বিষয় যা আপনার জানা উচিত
18-09-2026বিশ্বাসসুত্র সম্বন্ধে ৫টি বিষয় যা আপনার জানা উচিত
বেশীরভাগ খ্রিষ্টানরাই নাইসিয়ার বিশ্বাসসুত্র অথবা প্রৈরেতিক বিশ্বাসসুত্র এমন সম্পর্কে শুনে থাকেন, কিন্তু অনেক খ্রীষ্টানদেরই বিশ্বাসসুত্র সম্বন্ধে কয়েকটি ভুল ধারণা রয়েছে। এই বিশ্বাসসুত্রের প্রকৃতি, ইতিহাস, এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে অনেক ভুল বুঝাবুঝি রয়েছে। বিশ্বাসসুত্র সম্বন্ধে এখানে ৫টি বিষয় দেওয়া হয়েছে যা আপনার জানা উচিত।
১. “ক্রিড” শব্দটি ল্যাটিন শব্দ ক্রেডো এসেছে, সাধারণভাবে এর অর্থ হলো “আমি বিশ্বাস করি।”
ক্রিড এর বহুবচন হলো ক্রিডিমুস, এর অর্থ হলো “আমরা বিশ্বাস করি।” সংক্ষেপে, আমরা যখন একটি বিশ্বাসসুত্রকে আবৃত্তি করি, তখন সাধারণভাবে আমরা যা বিশ্বাস করি তার একটি বিবৃতি তৈরী করি। এর অর্থ হলো যদি আপনি কোনকিছু বিশ্বাস করেন, আপনার একটি বিশ্বাসসুত্র আছে। যদি আপনি বলেন, “আমি কোন বিশ্বাসসুত্রে বিশ্বাস করি না কিন্তু খ্রীষ্টেতে বিশ্বাস করি” তবে কি? সেক্ষেত্রে, সেটাই আপনার বিশ্বাসসুত্র। এটা একটি সংক্ষিপ্ত বিশ্বাসসুত্র তবুও এটা একটি বিশ্বাসসুত্র। আমরা যখন বুঝি যে বিশ্বাসসুত্র হলো মানুষের বিশ্বাসের বিবৃতি, তা আমাদেরকে শাস্ত্র এবং বিশ্বাসসুত্রের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও ভাল বুঝতে সাহায্য করে। পবিত্র শাস্ত্র হলো অনুপ্রাণীত। ২ তিমথীয় ৩:১৬ পদের গ্রীক শব্দ, থিওপনিওসটোস এর আক্ষরিক অর্থ হলো “ঈশ্বর-নিঃশ্বাসিত।” শাস্ত্র ঈশ্বরের অনুপ্রাণীত বাক্য। বিশ্বাসসুত্রগুলো হলো অনুপ্রাণিত নয় এমন মানুষের বাক্য। শাস্ত্রে, আমরা ঈশ্বরকে বলতে শুনি, “এই কথা সদাপ্রভু বলেন, . . .” বিশ্বাসসুত্রে, আমরা সাড়া দিই, “আমরা তোমার … বিশ্বাস করি।”
২. বাইবেল স্বয়ং বিশ্বাসুত্রের মতো সারাংশগুলোকে ব্যবহার করে।
এই বিষয়ে খুব সম্ভবত সবচেয়ে জনপ্রিয় উদাহরণ হলো দ্বিতীয়বিবরণ ৬:৪, এর শেমা যা শুরু হয়েছে এভাবে, “হে ইস্রায়েল, শুনঃ আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু, একই প্রভু।” এই সংক্ষিপ্ত বিশ্বাসসুত্র ন্যায় বিবৃতিটি পৌল ১ করিন্থীয় ৮:৬ পদে যীশু খ্রীষ্ট সম্পর্কে আরও প্রকাশিত সত্যের আলোকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন। বিশ্বাসসুত্রের মতো অন্যান্য বিবৃতি নূতন নিয়মের রোমীয় ১০:৯-১০ পদে এবং ১ করিন্থীয় ১৫:৩-৪ পদে (“যীশুই প্রভু”) পাওয়া যায়।
৩. প্রেরিতগণ প্রৈরিতিক বিশ্বাসসুত্র লিখেননি।
বারোজন প্রেরিত প্রৈরিতিক বিশ্বাসসুত্রটি লিখেছেন বলে যে কিংবদন্তী আছে তার উৎপত্তি মূলত চতুর্থ বা পঞ্চম শতাব্দির দিকে, কিন্তু কিংবদন্তী যে সত্য তার কোন প্রমাণ নাই। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় শতাব্দীতে মণ্ডলীগুলোতে সংক্ষিপ্ত বিশ্বাস সুত্রের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়। সবচেয়ে বেশী পরিচিত একটি হলো প্রাচীন রোমীয় বিশ্বাসসুত্র। এর বিষয়বস্তু এবং অন্যান্যদের বিষয়বন্তু, পরবর্তী প্রৈরিতিক বিশ্বাসসুত্রের বিষয়বস্তুর সঙ্গে খুবই মিল রয়েছে। এই সমস্ত প্রাচীন ধর্মীয় বিশ্বাসসুত্রসমসুহ, এমন কি এরও আগের বাপ্তিস্মের উপাসনা-পদ্ধতি থেকে এসেছে যেখানে বাপ্তিষ্মগ্রহণকারীকে ধারাবাহিক কয়েকটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হতো, যেখানে তাকে সংক্ষিপ্ত কাঠামোগত সাড়া দিতে হতো। বিশ্বাসের এই সমস্ত সংক্ষিপ্ত উপাসনা-পদ্ধতির বিবৃতি প্রাচীন ধর্মীয় বিশ্বাসসুত্রের মতোই। আদি খ্রিষ্টান লেখকদের মধ্যে কেউ কেউ যেমন ইউরেনিয়াস, এই বিষয়বস্তুকে রিগুলা ফিডেই বা “বিশ্বাসের নিয়ম” হিসাবে উল্লেখ করেছেন। এটা ছিল ঈশ্বর সম্বন্ধীয় বাইবেল ভিত্তিক শিক্ষার একটি সারাংশ।
৪. নাইসিয়ার বিশ্বাসসুত্রটি লেখা হয়েছিল ঈশ্বর সম্বন্ধীয় বাইবেল ভিত্তিক শিক্ষার বিরুদ্ধে ভ্রান্ত শিক্ষাকে প্রতিহত করার জন্য।
শাস্ত্রের যে কোন পাঠক এটা লক্ষ্য করবেন যে, এটি কয়েকটি বিষয় খুব পরিষ্কারভাবে শিক্ষা দেয়।
● প্রথম, এটি শিক্ষা দেয় যে সেখানে একমাত্র এবং শুধুমাত্র একমাত্র সত্য ঈশ্বর আছেন।
● দ্বিতীয়, এটি শিক্ষা দেয় যে পিতা হলেন ঈশ্বর।
● তৃতীয়, এটি শিক্ষা দেয় যে পুত্র হলেন ঈশ্বর।
● চতুর্থ, এটি শিক্ষা দেয় যে পবিত্র আত্না হলেন ঈশ্বর।
● পরিশেষে, এটি শিক্ষা দেয় যে পিতা পুত্র নন বা পবিত্র আত্না নন, পুত্র পিতা নন বা পবিত্র আত্না নন, পবিত্র আত্না পিতা নন বা পুত্র নন।
যেহেতু বিশ্বাসী এবং অবিশ্বাসী উভয়ই যখন জানতে চাইত যে এই পাঁচটি শিক্ষা কীভাবে একসাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, মাঝে মাঝে একটি উত্তর প্রস্তাব করা হতো যা এক বা একাধিক বাইবেলের এই মতবাদগুলো প্রত্যাখ্যানের দ্বারা সমস্যাগুলোকে সমাধান করা হয়। চতুর্থ শতাব্দীতে, আরিয়ুস নামের এক ব্যক্তি পুত্র যে ঈশ্বর তা অস্বীকার করার দ্বারা সমস্যার “সমাধান” করেছিলেন। এর ফলে এমন এক বিতর্কের সৃষ্টি হয় যা কয়েক দশক ধরে চলেছিল। এই বির্তক নিয়ে কাউন্সিল অফ নাইসিয়া (৩২৫ খ্রীষ্টাব্দে) এবং কনষ্টানটিনোপলে (৩৮১ খ্রীষ্টাব্দে) সমাধান করা হয়। এই দুটি কাউন্সিলের ফলাফলই হলো নাইসিয়ার বিশ্বাসসুত্র। এটা হলো বাইবেল ভিত্তিক ঈশ্বরের মতবাদ সম্বন্ধে মণ্ডলীর বিশ্বাসের একটি বিবৃতি, এরিয়ুস এবং অন্যান্যদের খ্রিষ্টান বিরোধী বিশ্বাসের মতবাদকে প্রতিহত করার জন্য লিখিত। এটি পূর্ববর্তী ও সংক্ষিপ্ত ধর্মীয় বিশ্বাসসুত্রের মূল কাঠামো অনুসরণ করে। তবে সেই বিষয়গুলো যেন ভ্রান্ত মতবাদ দিয়ে বিকৃত করা না হয়, সে জন্য এতে সুনির্দিষ্ট ভাষা সংযুক্ত করা হয়েছে।
৫. বিশ্বাসসুত্রের ব্যবহার রোমান ক্যথিলিকবাদের প্রতি একটি পিচ্ছিল ঢাল নয়।
উপরোল্লিত অনুসারে, তারা উপলদ্ধি করুক বা না করুক সকল খ্রিষ্টানদেরই একটি বিশ্বাসসুত্র আছে। আপনার যা করতে হবে তা হলো এটা প্রমান করার জন্য যে কোন খ্রিষ্টানকে প্রশ্ন করা (এমনকি নিজেকেও), “বাইবেল যে সম্বন্ধে শিক্ষা দেয় আপনি কি বিশ্বাস করেন (একটি বিষয় বাঁছাই করেন)? উত্তর যাই হউক না কেন, সেই উত্তরই হলো একটি বিশ্বাসসুত্র। প্রাথমিক যুগের প্রটেষ্ট্যান্টরা মণ্ডলীর প্রাচীন বিশ্বাসসুত্রগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেননি। নাইসিয়ার বিশ্বাসসুত্রে ত্রিত্বের বাইবেল ভিত্তিক মতবাদকে যেভাবে সংক্ষেপে বর্ণিত করা হয়েছে সেভাবেই তারা প্রতিনিয়ত শিক্ষা দিয়েছেন এবং রক্ষা করেছেন। তারা চ্যালসিডিয়ানের সংজ্ঞায় খ্রীষ্ট সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণিত বাইবেলের মতবাদ অব্যহতভাবে শিক্ষা দিয়েছেন এবং রক্ষা করেছেন। শুধুমাত্র সসিনিয়াসের মতো ভ্রান্ত মতবাদের লোক (ষোড়শ শতাব্দির উদারপন্থী) যারা প্রাচীন খ্রীষ্টিয়ান বিশ্বাসসুত্রগুলো প্রত্যাখ্যান করেছিল।
এই প্রবন্ধটি মূলতঃ লিগনিয়্যার মিনিস্ট্রিজ ব্লগে প্রকাশিত হয়েছিল।


