
পৌলের অনুকারীগণ
21-05-2026প্রেরিত পিতরের সম্বন্ধে যে ৫ টি বিষয় আপনার জানা উচিত
আদি মণ্ডলীর ইতিহাসে গুরুত্বের দিক দিয়ে প্রেরিত পিতরই একমাত্র অন্য প্রেরিত, যাঁকে প্রেরিত পৌলের সমকক্ষ বলা যেতে পারে। তাকে শিমোন নাম দেওয়া হয়েছিল (মথি ৪:১৮; মার্ক ১:১৬; লুক ৫:৪), কিন্তু তিনি সবেচেয়ে বেশী পরিচিত হয়ে উঠেন পেট্রস নামে, যা অরামিক ডাক নাম কৈফা (অর্থ হলো “পাথর”) এর গ্রীক অনুবাদ, যীশুই তাকে এই নাম দিয়েছিলেন (মথি ১৬:১৮)। আদি মণ্ডলীতে তাঁর প্রধান্য বিষয়টি যিশুর দেওয়া বিশেষ নামকরণের মধ্য দিয়ে পূর্বাভাস পাওয়া যায় এবং রোমের মণ্ডলীর সাথে তাঁর সম্পৃক্ততার সূত্র ধরেই সেই অবস্থান আরও বিকশিত হয়ে ওঠে। এখানে পিতর সম্বন্ধে পাঁচটি বিষয় তুলে ধরা হলো যা খ্রীষ্টের প্রেরিতদের মধ্যে তার প্রাধান্যতা ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করবে।
১. মার্ক মূলত পিতরের উপর ভিত্তি করেই যীশুর পরিচর্যার বিষয়ে লিখেছেন ।
বর্তমানের বেশীরভাগ পিন্ডিতগণ জানেন যে চারটি সুসমাচারের মধ্যে মার্কের লেখা সুসমাচার প্রথমে লেখা হয়েছে। আদি মণ্ডলীর ইতিহাসবিদ ইউসিবিয়াস পাপিয়াসের সাক্ষ্য থেকে বলেন যে, মার্ক মূলত যীশুর বিষয়ে পিতরের শিক্ষার উপর ভিত্তি করেই লিখেছেন। পাপিয়াসের মতে: “মার্ক ছিলেন পিতরের অনুবাদক এবং তিনি প্রভুর বলা ও করা বিষয়গুলো সম্পর্কে যা মনে রেখেছিলেন, তা সবকিছু সঠিকভাবে লিখেছিলেন, যদিও তিনি ঘটনাগুলো ধারাবাহিক ক্রমে লিপিবদ্ধ করেননি। কারণ তিনি প্রভুকে শুনেননি বা তাঁর অনুসারণও করেননি। পরে, যেমন আমি বলেছি, পিতরকে অনুসরণ করেন, যিনি প্রয়োজনের দাবী অনুসারে শিক্ষা দিতেন কিন্তু প্রভুর বানীগুলো একটি ধারাবাহিকভাবে সাজিয়ে উপস্থাপন করতেন না। তাই মার্ক এভাবে তিনি যে সমস্ত বিষয় মনে রেখেছিলেন তার একেকটি বিষয় লেখার ক্ষেত্রে কোন ভুল করেননি।”
২. যীশুর শিষ্যদের মধ্যে পিতর ছিলেন প্রথম যিনি তাঁকে মশীহ (বা খ্রিস্ট) হিসাবে চিহ্নিত করেছিলেন (মথি১৬:১৬; মার্ক ৮:২৯; লূক ৯:২০)।
এটাই হলো সেই ঘটনা যেখানে যীশু শিমোনকে “পাথর” (পিতর) হিসাবে আখ্যায়িত করেন। তবে মার্ক এবং মথি এও দেখান যে, পিতর সম্ভবত তখনও এটা বুঝতে পারেননি যে, কিভাবে এই পরিচয় ঈশ্বরের রাজ্য এবং এর আগমনের বিরাজমান প্রত্যাশার সাথে সাংঘর্ষিক হবে। বস্তুত, এর পরের অংশেই যেখানে পিতর বিশ্বাসঘকতা, মৃত্যু এবং পুনরুত্থান সম্পর্কে কথা বলায় যীশুকে অনুযোগ করেন, তখন যীশু পিতরকে, “শয়তান” বলে একটি নূতন নামে আখ্যায়িত করে সাড়া দিয়ে তিরষ্কার করেন (মথি ১৬:২১-২৩; মার্ক ৮:৩১-৩৩)। প্রেরিতদের কার্যাবলীতে পিতরের প্রথম প্রচার (প্রেরিত ২:১৪-৩৬) এবং তার প্রথম পত্রের প্রারম্ভিক আশির্বাদজ্ঞাপন (১ পিতর ১:৩-৫) উভয়ই প্রকাশ করে যে খ্রীষ্টের মৃত্যু এবং পুনরুত্থান যে ঈশ্বরের রাজ্যের আগমনের জন্য কেন্দ্রীয় বিষয় সেই শিক্ষা পাওয়ার মুহুর্ত তিনি কখনই ভুলে যাননি।
৩. পিতর ছিলেন প্রথম দুই প্রেরিতের মধ্যে একজন, যাঁরা যীশুর শুন্য কবরের সাক্ষী হয়েছিলেন (লূক ২৪:১-১২; যোহন ২০:১-১০)।
যীশুকে মশীহ হিসেবে পিতরের চিহ্নিতকরণের মতো, এই ঘটনাটিও দেখায় যে যীশুর নিজের শিক্ষা এবং পবিত্র আত্মার কাজ ছাড়া খ্রীষ্টের মত্যৃ এবং পুনরুত্থানের পরিপূর্ণ তাৎপর্য অনুধাবন করার অক্ষমতাকেও প্রকাশ করে। লূকের সুসমাচারে, যীশু পিতর এবং যোহনকে শাস্ত্রে তাঁর সমন্ধে শিক্ষা দেওয়ার পর এবং রুটি ভেঙে তার অর্থ প্রকাশ করার পরই কেবলমাত্র তারা তা বুঝতে পেরেছিলেন (লূক ২৪:২৫-৩৫)। যোহনের সুসমাচারে, তারা কোন কিছু না বুঝেই শুন্য কবর ত্যাগ করেছিলেন (যোহন ২০:৯)। শুধুমাত্র যখন যীশু তাদেরকে দেখা দিয়ে, পরে তাদেরকে পরবর্তী সুসমাচার প্রচারের জন্য প্রস্তুত করতে ফুঁ দিয়ে পবিত্র আত্না তাদের উপর দান করেন তখনই তারা তাঁকে বুঝতে পেরেছিল (যোহন ২০:২১-২৩)।
৪. লূকের দ্বিতীয় খন্ড, প্রেরিতদের কার্যাবলী অনুসারে বারোজন প্রেরিতদের মধ্যে পিতরই প্রথম যিনি পরজাতীয়দের কাছে সাক্ষ্য বহন করেন এবং তাদের মন পরিবর্তনকে নিশ্চিত করেন।
এটা যে বিদ্রুপাত্নক উপায়ে ঘটেছে তার সঙ্গে যীশুর মৃত্যু এবং পুনরুত্থানের বার্তার প্রতি পিতরের প্রাথমিক প্রতিরোধের সাথে খ্রীষ্টের ক্রুশারোপনের প্রতি তার মনোভাবের সাথে অনেকটাই মিল আছে। পিতর তার বিখ্যাত দর্শন দেখেছেন তিনবার যখন তিনি তিনবারই যীশুর আদেশ প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং পরে তাঁর দ্বারা সংশোধীত হয়েছেন (প্রেরিতদের কার্যাবলী ১০:১-১০; ১১: ৫-১০)। পরবর্তী মুহুর্তে যখন তিন জন ব্যক্তি পিতরের সাথে সাক্ষাত করতে আসে এবং তিনি তাদেরকে তার দর্শনের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করছিলেন, তখনই পবিত্র আত্মা তাদের উপর নেমে আসে, এর মাধ্যমে নিশ্চিত হয় যে তাদেরও খ্রিস্টান (খ্রিস্টে বিশ্বাসী) হিসেবে বাপ্তাইজিত হওয়া উচিত (প্রেরিতদের কার্যাবলী ১০:১৭-৪৮; ১১:১১-১৮)।
৫. পরিশেষে, প্রেরিত পিতর হলেন শাস্ত্রের একমাত্র মানব লেখক যিনি তার নিজের অনুপ্রাণিত কাজের মধ্যে প্রেরিত পৌলের পত্রাবলীকে উল্লেখ করেন এবং সেগুলোকে শাস্ত্রের সাথে যুক্ত করেন।
প্রভুর দিনের আগমনের বিষয়ে তার নির্দেশনার উপসংহারে, যেমন পৌলও এই সমস্ত বিষয়ে লিখেছিলেন, পিতর তার পাঠকদের ধৈর্য ধারণের জন্য স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন (২ পিতর ৩:১৪-১৫)। বিনয়ের এক উৎসাহব্যঞ্জক উদাহরণ হিসেবে এবং অতীতে আধ্যাত্মিক বিষয় বুঝতে ধীর হলেও ঈশ্বরের অনুগ্রহে তাঁর জীবনে যে পরিপক্বতা এসেছিল, তার প্রমাণস্বরূপ পিতর স্বীকার করেন যে, এসব বিষয় সম্পর্কে পৌলের চিঠিগুলোর কিছু কথা বুঝতে কঠিন (২ পিতর ৩:১৬ ক)। তাই, কয়েকজন যারা পৌলের বাক্যগুলোকে ভাঁজ দিতে চেয়েছে এবং অন্যান্য শাস্ত্র দ্বারা তাদেরকে প্রতাড়না করতে চেয়েছে তাদের শিক্ষাকে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য পিতর তার পাঠকদের সর্তক করেছেন (২ পিতর ৩:১৬খ-১৭)।
যদিও খ্রীষ্টের প্রেরিতদের মধ্যে পিতরের গুরুত্ব বা প্রাধান্য ব্যাখ্যা করার জন্য আরও অনেক কিছু বলা যেতে পারে, তবুও উপরে আলোচিত বিষয়গুলো একটি সাধারণ বিষয়ের (কেন্দ্রীয় বিষয়) দিকে দৃষ্টি দিতে আমাদেরকে বাধ্য করে: “আমাদের নিজেদের দুর্বলতা সত্বেও পুনরুত্থিত প্রভু যীশু খ্রীষ্টেতে বিশ্বাসের দ্বারা উদ্ধার (মুক্তি) এবং রুপান্তর (পরিবর্তন) আসে।”
এই প্রবন্ধটি মূলতঃ লিগনিয়্যার মিনিস্ট্রিজ ব্লগে প্রকাশিত হয়েছিল।
