5 Things You Should Know About the Apostle Peter

প্রেরিত পিতরের সম্বন্ধে যে ৫ টি বিষয় আপনার জানা উচিত 

04-09-2026
5 Things You Should Know About Moses

মোশি সম্বন্ধে ৫টি বিষয় যা আপনার জানা উচিত

18-09-2026
5 Things You Should Know About the Apostle Peter

প্রেরিত পিতরের সম্বন্ধে যে ৫ টি বিষয় আপনার জানা উচিত 

04-09-2026
5 Things You Should Know About Moses

মোশি সম্বন্ধে ৫টি বিষয় যা আপনার জানা উচিত

18-09-2026

প্রেরিত পৌল সম্বন্ধে যে ৫টি বিষয় আপনার জানা উচিত

5 Things You Should Know About the Apostle Paul

প্রেরিত পৌল ছিলেন নূতন নিয়মের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ লেখক, এবং তিনি ভুমধ্যসাগরীয় সব অঞ্চলে পরিভ্রমন করেছেন। তিনি ইহুদি বংশোদ্ভূত ছিলেন, এবং সেই সাথে তিনি রোমীয় নাগরিকও ছিলেন। বাইবেলের একটি আকর্ষনীয় চরিত্র হিসাবে তাঁর জীবন এবং লেখনি সমন্ধে ৫টি বিষয় আপনি হয়তো নাও জেনে থাকতে পারেনঃ

১. নূতন নিয়মের লেখকদের মধ্যে পৌল হয়তো ছিলেন প্রথম লেখক। 

সেই সমস্ত ঐতিহাসিক খ্রীষ্টিয় গোঁড়াপন্থী সমালোচনা দীর্ঘকাল ধরে যীশুর এবং প্রেরিত পৌলের শিক্ষার মধ্যে তাৎপর্যপূর্ণভাবে অসামঞ্জস্য বা বিচ্ছিন্নতা রয়েছে বলে দাবী করে আসছে। এই সমালোচনার একটি বড় অংশের উৎপত্তি এই বাস্তবতা থেকে যে, যীশুর পুনরুত্থানের পর এবং পঞ্চাশত্তমীর পর মণ্ডলীর সুসমাচার প্রচার কার্যক্রমের প্রাথমিক পর্যায় অতিক্রান্ত হওয়ার পরেই পৌল খ্রীষ্টীয় আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। তবে, পৌলের পত্রগুলোর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সুসমাচারগুলোর প্রস্তাবিত প্রাচীনতম রচনাকালেরও আগে লেখা হয়েছিল, এবং এমন কি পৌলের প্রথম দিকের কয়েকটি পত্র সম্ভবত যাকোবের পত্রেরও আগে রচিত হয়েছিল। পৌল তিনি যে পরিমান লিখেছেন শুধুমাত্র সেই কারণের জন্যই প্রাথমিক মণ্ডলীর বিশ্বাস গঠনের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী ছিলেন না। কিন্তু সম্ভবত তাঁর লেখাগুলোই যীশু খ্রীষ্ট এবং তাঁর সুসমাচার সম্পর্কে আমাদের কাছে থাকা প্রাচীনতম ঐতিহাসিক প্রমাণ।

২. পৌল প্রায়ই অন্যদের সঙ্গে সহযোগিতা করে তাঁর পত্রগুলো লিখতেন।

পৌলের ধর্মতত্ত্ব নিয়ে অনেক বই লেখা হয়েছে। নতুন নিয়মের ক্যানন গড়ে ওঠার সময় পবিত্র আত্মার অনুপ্রেরণায় তিনি যে অসাধারণ সাহিত্যিক উত্তরাধিকার রেখে গেছেন, তা বিবেচনা করলে বিষয়টি মোটেও বিস্ময়কর নয়। রোমীয়দের প্রতি পত্রের মতো অসাধারণ রচনাগুলো পৌলের গভীর ধর্মতাত্ত্বিক চিন্তার পরিচয় স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। তা সত্বেও, যদিও পৌল সন্দেহতীত ভাবে তার সমস্ত পত্রাবলীর প্রধান লেখক, তার শুভেচ্ছা জ্ঞাপন অংশ পরিষ্কারভাবে ইংগিত করে যে আনুমানিক তার অর্ধেক পত্রাবলীতে তার সহমিশনারীদের এবং সুসমাচারের পরিচর্যাকারীদের সহযোগিতায় লেখা হয়েছিল। পৌল কোনো প্রথা-ভাঙা বা বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন ঈশ্বতত্ত্ববিদ ছিলেন না; তিনি প্রায়ই সহবিশ্বাসীদের সাথে অংশীদারিত্বে মণ্ডলীর প্রতি তার শিক্ষা এবং নির্দেশনাকে কাজে লাগাতেন।

৩. পৌল যা কিছু লিখেছিলেন, তার সবকিছুই শাস্ত্র ছিল না।

ঈশ্বর পৌলকে একটি উল্লেখযোগ্য ফ্যাশনে ব্যবহার করে মণ্ডলীকে শিক্ষা ও নির্দেশনায় পূর্ণ তেরোটি অনুপ্রাণিত, নির্ভুল ও নিখুঁত পত্র দিয়েছেন। তবে, পৌল যখনই পেপারিয়াসে লেখার জন্য কলম ধরেছেন তখন প্রত্যেকবারই যে পবিত্র শান্ত্র লেখা হয়েছে, তা নয়। বস্তুত, পৌলের পত্রাবলীর অনেক জায়গায় তার অনান্য পত্রাবলী সমন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে যে সেগুলো প্রাথমিক মণ্ডলী কর্তৃক পবিত্র শাস্ত্র হিসেবে না সংরক্ষিত হয়েছে এবং না গ্রহনযোগ্য হয়েছে।  পৌলের মিশনারী কাজের সময় করিন্থীয় মণ্ডলীকে সম্ভবত কম পক্ষে আরও দুটি পত্র পাঠানো হয়েছিল (১ করিন্থীয় ৫:৯; ২ করিন্থীয় ২:৩-৪, ৯:৭:১২). প্রেরিত পৌল কলসীর মণ্ডলীর কাছে লেখার সময় লায়দিকেয়ার মণ্ডলীর কাছে লেখা তাঁর আরেকটি পত্রের কথাও উল্লেখ করেছেন (কলসীয় ৪:১৫-১৬ )। তার উদ্দেশ্য ছিল, পারস্পরিক উপকারের জন্য দুই মণ্ডলী যেন তাঁর কাছ থেকে পাওয়া চিঠিগুলো একে অপরের সাথে বিনিময় করে। তবে, আদি মণ্ডলী কর্তৃক কেবলমাত্র কলসীয়দের প্রতি লেখা পৌলের পত্রই শাস্ত্র হিসাবে গৃহীত হয়েছিল এবং স্বীকৃতি লাভ করেছিল।

৪. ব্যক্তি হিসাবে পৌল সম্ভবত খুব বেশী চিত্তাকর্ষক বা আকর্ষণীয় ব্যক্তি ছিলেন না। 

অনেক উল্লেখযোগ্য খ্রীষ্টীয় ব্যক্তিত্বের মধ্যে এমন কিছু স্বাভাবিক গুণ ও প্রতিভা থাকে, যা তাদের নেতৃত্বের জন্য উপযুক্ত করে তোলে। দুঃখজনকভাবে, সুন্দর ও সাবলীল বক্তৃতা, আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব এবং মনোরম চেহারা অনেক সময় যারা বিশ্বাসে ততটা বিশ্বস্ত নয়, তাদের গুরুতর ধর্মতাত্ত্বিক ও নৈতিক ঘাটতিগুলো আড়াল করে রাখতে পারে। পৌলের পত্রাবলীকে নূতন নিয়মে প্রাধান্য দিয়ে, হয়তো আমরা মনে করতে পারি যে এই মহত্বটা পৌলের ব্যক্তিত্ব এবং সামগ্রিক সক্ষমতাকে তুলে ধরে। কিন্তু শাস্ত্রে আমরা প্রমান পাই যে, পৌল প্রায়ই খুব বেশী চিত্তাকর্ষক, আবেদনময়ী, অথবা গোছানো মসৃন ব্যক্তি ছিলেন না (যেমন., ২ করিন্থীয় ১০:১০)। এটি আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, আমাদের দুর্বলতায় খ্রীষ্ট গৌরবান্বিত হন, এবং সুসমাচারের প্রসার এবং অগ্রসরমানতা আমাদের পার্থিব জ্ঞান (প্রজ্ঞা) অথবা প্রাকৃতিক সক্ষমতার উপর নির্ভর করে না।

৫. পৌল সম্ভবত তার পরিচর্যাকালে পুরো সময়জুড়েই ভঙ্গ স্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলেন। 

একজন মিশনারী হিসাবে খুবই সক্রিয় এবং ফলপ্রসু হলেও, পৌল সম্ভবত তার সমস্ত পরিচর্যাজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক অসুস্থতা এবং ব্যাথায় ভুগেছিলেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণেই তিনি প্রথমবার গালাতীয় অঞ্চলে গিয়েছিলেন (গালাতীয় ৪:১৩-১৪)। গালাতীয়দের কাছে লেখা তার পত্র থেকেও আমরা জানি যে, পৌল সম্ভবত চোখের সমস্যায় ভুগছিলেন যা সেখানকার বিশ্বাসীরা তাঁর প্রতি গভীর সহানুভূতি দেখিয়েছিল] (গালাতীয় ৪:১৫) এবং এই কারণে তাদের কাছে তার চিঠির প্রত্যয়নের সময় তিনি অনেক বড় অক্ষরে লিখেছিলেন (গালাতীয় ৬:১১)। এই অবস্থায় হয়তো পৌলের সেই বিখ্যাত “দেহে কাঁটা” এর পিছনে যা ছিল তাই (২ করিন্থীয় ১২:৭-৯)। এর বাইরে, পৌল ২ করিন্থীয় ১১:২৩-২৮ পদগুলোতে যে কয়েকটি ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক আঘাতের কথা বলেছেন তা কল্পনা করা কঠিন বিষয় নয়, সম্ভবত এটাই তার শারীরিক দেহের উপর একটি স্থায়ী দাগ সৃষ্টি করেছে। কেননা বর্তমানে খ্রীষ্টবিশ্বাসী যারা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা এবং মানসিক আঘাতের শিকার হন, পৌলের কিংবদন্তী একটি উৎসাহজনক হতে পারে। 

যীশু খ্রীষ্টের মধ্যদিয়ে ঈশ্বর আমাদের জন্য যে পরিত্রাণ সাধন করেছেন সেই সম্বন্ধে আমাদেরকে বলার প্রেরিত পৌলের অনেক কিছু আছে। ঈশ্বর প্রেরিত পৌলকে তাঁর সময়ে এবং আমাদের সময়েও তাঁর লোকদের শিষ্য হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যবহার করেছেন। বাইবেল অধ্যয়ন করার সময় প্রেরিত পৌল সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানা সত্যিই খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, প্রেরিত পৌল সম্পর্কে আরও বেশি জানা আমাদের পবিত্র শাস্ত্রকে আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করে, আর পবিত্র শাস্ত্রকে আরও ভালোভাবে বোঝা আমাদের বিশ্বাসে বৃদ্ধি পেতে সাহায্য করে।

এই প্রবন্ধটি মূলতঃ লিগনিয়্যার মিনিস্ট্রিজ ব্লগে প্রকাশিত হয়েছিল।

ম্যাথিও এ. ডুডরেক

ম্যাথিও এ. ডুডরেক

ড. ম্যাথিও এ. ডুডরেক হলেন ফ্লা. সেন্ডফোর্ড এর রির্ফমেশান বাইবেল কলেজের নূতন নিয়মের সহকারী প্রফেসর।