
“মানব জীবনের পবিত্রতা” বিষয়ক কথা বলার সময় আমরা কি বুঝাই?
16-09-2025
পবিত্রকরণসমন্ধে৫টিবিষয়আপনারজানাউচিত
30-09-2025জনক্যালভিনসম্পর্কে৫টিবিষয়আপনারজানাউচিত।
১. জন ক্যালভিন তার মণ্ডলী, পরিচর্যা-কাজ এবং আবাস থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন।
জেনেভাতে তার পরিচর্যা-কাজ শুরু করার দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে, উনত্রিশ বছর বয়সী জন ক্যালভিন (১৫০৯-৬৪) দেখেন যে, তিনি নিজে তার মণ্ডলী, পরিচর্যা-কাজ এবং আবাস থেকে বহিষ্কৃত, সাথে পান দু’ দিনের মধ্যে শহর ত্যাগ করার নোটিশ। যখন তিনি এবং তার বন্ধু উইলিয়াম ফ্যারেল সেই এপ্রিল মাসে জেনেভা থেকে যাত্রা শুরু করেন; কোন সন্দেহ নেই যে, এর পরে কি অপেক্ষা করছে তা নিয়ে তারা অনুমান করতে পেরেছিলেন। এই তিক্ত অভিজ্ঞতার জবাবে আসন্ন-ভয়াবহ মাণ্ডলীক দ্বন্দ্বের উপরে তাদের চিন্তা নিবিষ্ট ছিল; তারা জেনেভাতে পুনঃস্থাপিত হতে জুরিখ এবং বার্নকে রাজি করানোর পরিকল্পনা করছিলেন। অথচ, প্রভু যে তাঁর দূরদৃষ্টি অনুসারে তাদের সমস্ত প্রচেষ্টাকে যে নসাৎ করতে যাচ্ছেন, তা ক্যালভিনের অজ্ঞাতই ছিল। পরিবর্তে, তিনি এক সময়োচিত পালকীয় প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছিলেন যা পরবর্তীতে ক্যালভিনের পালকীয় কাজে ফলপ্রসূতার ভিত্তি হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিল।
২. জন ক্যালভিন পরিচর্যা-কাজে ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা লাভ করেছিলেন।
মণ্ডলীর শাসনের মধ্য দিয়ে প্রভুর ভোজের বিশ্বস্ত অনুষ্ঠান-উদযাপন প্রয়োগ করতে জেনেভায় ক্যালভিনের প্রথম দিককার প্রচেষ্টা সম্পর্কিত তার জীবন কাহিনীর সাথে যারা কিছুটা পরিচিত, তাদের মধ্যে অল্পই লোকই এ ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে প্রভু কিভাবে ক্যালভিনকে পরিবর্তন করেছিলেন, তা জানেন। নির্বাসনের থাকার সময় একবার, ক্যালভিন প্রথম দিকে বাসেলে বসবাস করতেন, কিন্তু পরবর্তীতে মার্টিন বুচার (১৪৯১-১৫৫১) কর্তৃক স্ট্র্যাসবুর্গে আসার জন্য আমন্ত্রিত হয়েছিলেন। বুচার, যিনি ক্যালভিন থেকে প্রায় বিশ বছরের বড় ছিলেন, তিনি সে শহরে ক্যালভিনের জন্য পরিচর্যা-কাজের জন্য শুধুমাত্র সুযোগ উন্মুক্ত করেন নি, কিন্তু, তিনি তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়েছেন, তাকে তার গৃহে স্বাগত জানিয়েছেন, এবং এক সময়ে ক্যালভিনের জন্য পাশের একটি ঘর ক্রয়ের ক্ষেত্রেও সাহায্য করেছেন। এক বছর আগে ক্যালভিন বুচারকে একটি আক্রমণাত্মক এবং ধৃষ্টতাপূর্ণ ভাষায় চিঠি লেখা সত্ত্বেও বুচার এমনটি করেছিলেন – তিনি ক্যালভিনের প্রতি ধৈর্য্য এবং প্রেমে সাড়া দিয়েছেন। বুচারের মধ্যে ক্যালভিন তার পরামর্শদাতা ও পালককে খুঁজে পেয়েছিলেন যা তার প্রয়োজন ছিল।
৩. ক্যালভিন শরণার্থীদের মধ্যে পালক হিসেবে সেবা দিয়েছিলেন।
যে বছরে ক্যালভিন জেনেভাতে উপস্থিত হন (১৫৩৮), সে বছরেই বুচার “কনসার্নিং দ্যা ট্রু কেয়ার অব সোলস” নামে তার “ক্ষুদ্র পুস্তিকার” পাণ্ডুলিপি শেষ করছিলেন।.1 এতে কোনই সন্দেহ নেই যে, তাদের ভোজনপানের কথপোকথনের সময়, তারা দু’জনে পালকীয় পরিচর্যা-কাজ এবং মণ্ডলীর জীবন সম্বন্ধে বিশদভাবে আলোচনা করতেন। স্ট্র্যাসবুর্গে পরিচর্যা-কাজে বাধা-বিপত্তির বিষয়ে বুচারের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ছিল এবং তার লেখনি ছিল মণ্ডলীতে এবং তার পরিচর্যা-কাজে খ্রীষ্ট-কেন্দ্রীক বৃদ্ধি আনয়নেরই এক ধৈর্য্যশীল প্রচেষ্টার অংশ। ঈশ্বরের মঙ্গল দূরদৃষ্টি অনুসারে; সে শহরে পরিচর্যা-কাজে ক্যালভিনের সুযোগ শিক্ষা-দানকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল; তিনি ফরাসি শরণার্থীদের মধ্যকার উপাসনা-দলের পালক হিসেবে সেবা করেছিলেন। একদিকে সে কাজে অনেক উৎসাহের বিষয় ছিল, কিন্তু আবার ক্যালভিন দুঃখের অভিজ্ঞতাও পেয়েছিলেন। পিয়েরে রবার্ট অলিভেতাঁ নামে তার নিকটতম বন্ধু এবং চাচাত ভাই মারা যান, যিনি তার বিশ্বাসান্তরে সহায়কের ভুমিকা রেখেছিলেন। লুইস দো তিলেত নামের ফ্রান্সের একজন পুরনো বন্ধু, যিনি তাকে নির্যাতনের সময় আশ্রয় দিয়েছিলেন এবং তার দি ইন্সটিটিয়ূট অফ দ্যা খ্রীষ্টিয়ান রিলিজিয়ন এর প্রথম খসড়া রচনার সময়ে রশদ সরবরাহ করেছিলেন, তিনি রোমান ক্যাথলিকবাদে ফিরে গিয়েছিলেন। ১৫৪০ সালে ইডেলেতে দো বিউরকে, ক্যালভিনের মতে “আমার জীবনে সর্বশ্রেষ্ঠ সঙ্গীকে“ বিয়ে করার মধ্যদিয়ে তার জীবনে এক নূতন আনন্দ ফিরে এসেছিল।
৪. জন ক্যালভিন স্বেচ্ছায় তাকে বহিষ্কারকারী মণ্ডলীতে প্রত্যাগমন করেন।
ক্যালভিনের বিয়ের একই বছরে, স্ট্র্যাসবুর্গে তার নূতন কাজের মাঝে, যে সময়কে তিনি “আমার জীবনের সবচে’ সুখের সময়” বলেছেন, সে সময়ে সবচে’ বড় অপ্রত্যাশিত আহবান আসে। জেনেভা চেয়েছিল যেন তিনি ফেরত যান এবং আবার পালক হিসেবে সেবা করেন। তিনি এমন কিছু বলে ইতস্তত করেন, “আকাশের নীচে এমন কোন স্থান নেই যেখানে আমি বেশী ভয় পাই ………. প্রতি দিন সহস্র বার আমার জীবনকে বিনষ্ট করার মত সে ক্রুশের উপর মৃত্যুর চেয়ে আমি বরং শতবার অন্যান্য উপায়ে মৃত্যুর কাছে নিজেকে সমর্পণ করব।” তথাপি, এ অল্প কয়েকটি বছরে, শুধুমাত্র যে জেনেভাই পরিবর্তিত হয় নি – ক্যালভিনও পরিবর্তিত হয়েছিলেন। বুচারের উৎসাহ, আর তার স্বীয় আশঙ্কা নিয়ে, ক্যালভিন এই আহবানে সাড়া দিয়েছিলেন। কিছু কিছু দিক থেকে, শহরটি পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল, এবং মণ্ডলী ও সমাজে সংষ্কার-যুগের দিক-নির্দেশনাকে আরও বেশী স্বাগত জানাচ্ছিল। অন্য দিক থেকে, শহরটি আগের মতই রয়ে গিয়েছিল। প্রভুর ভোজের অনুষ্ঠান-উদযাপন সম্পর্কিত ইস্যুটি নিষ্পত্তি করার আগে চৌদ্দটি দীর্ঘ বছরের পরিচর্যা-কাজের সময় লেগেছিল। মণ্ডলীর দুর্বলতার কারণে একদিকে ক্যালভিন অনেক দুঃখ পেলেও, তার জীবনে বুচারের পরিচর্যা-কাজকে সহায়ক হিসেবে প্রভুর ব্যবহারের কারণে, মণ্ডলীর জন্য তার আরও দীর্ঘ-কালীন দর্শন এবং আরও অধিক ধৈর্যশীল প্রেম ছিল।
৫. আনন্দ ও পরীক্ষার মধ্যদিয়ে, জন ক্যালভিন ঈশ্বরের দূরদৃষ্টি অন্বেষণ করেছিলেন।
নয় বছর পরে, জেনেভাতে তার নূতনীকৃত পরিচর্যা-কাজের সময়ে এবং তার প্রিয় স্ত্রীকে কবরস্থ করার ঠিক কয়েক মাস পরেই, তিনি থিষলনীকীয় মণ্ডলীর কাছে লেখা পৌলের বাক্যগুলো শিক্ষা দিয়েছেন: “পৌল এমন বলেন নি যে ঈশ্বরের অনুগ্রহে আমাদের পরিত্রাণের শুধুমাত্র সূচনা হয়েছে …… কিন্তু আমাদের পরিত্রাণের পুরো অগ্রগতিই ঈশ্বরের অনুগ্রহ বৈ আর কিছু নয়।” আনন্দ ও পরীক্ষার মধ্যদিয়ে, তিনি আরও বেশী গভীরভাবে শিখেছেন যে সেই আনন্দপূর্ণ দিনগুলো এবং ভীতিকর মনে-হওয়া ঈশ্বরের দূরদৃষ্টিগুলোর পশ্চাতে ত্রাণকর্তার মৃদু-হাঁসি লুকিয়ে রয়েছে যিনি সেবা-কাজ এবং গৌরবের জন্য আমাদেরকে গঠন করা অব্যাহত রেখেছেন।
এই প্রবন্ধটি মূলতঃ লিগনিয়্যার মিনিস্ট্রিজ ব্লগে প্রকাশিত হয়েছিল।


