
জনক্যালভিনসম্পর্কে৫টিবিষয়আপনারজানাউচিত।
23-09-2025
দায়ুদসমন্ধে৫টিবিষয়আপনারজানাউচিত
07-10-2025পবিত্রকরণসমন্ধে৫টিবিষয়আপনারজানাউচিত
আপনাকে যদি পবিত্রকরণের বাইবেল ভিত্তিক মতবাদের সংক্ষিপ্ত এক সংজ্ঞা খুঁজতে হত, তবে ওয়েস্টমিন্সটার শর্টার ক্যাটেকিজমের চেয়ে ভাল সংজ্ঞা খুঁজে পাওয়া আপনার জন্য খুবই কষ্টসাধ্য হবে। ৩৫ নং প্রশ্নের উত্তরে, ওয়েস্টমিন্সটার লিখেছে, “পবিত্রকরণ ঈশ্বরের বিনামূল্যে অনুগ্রহের কাজ, যদ্বারা আমরা ঈশ্বরের প্রতিমূর্তির মত পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে নূতনীকৃত হই, এবং যার ফলে আমরা আরও বেশী বেশী করে পাপের সমন্ধে মারা যেতে, এবং ধার্মিকতার সম্বন্ধে জীবন-যাপন করতে সামর্থ লাভ করি।” যদিও এটা পবিত্রকরণের অগ্রগতিশীল প্রকৃতির সঠিক সংজ্ঞা, শাস্ত্র পবিত্রকরণের আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিককেও গুরুত্ব দিয়েছে যেগুলো মুক্তির এ আশীর্বাদ সম্বন্ধে পূর্ণ-সর্বোপরি ধারণা লাভের জন্য আবশ্যক। নীচের পাঁচটি বিষয় বিবেচনা করুন:
১. খ্রীষ্টই পবিত্রকরণের উৎস
বিশ্বাসীরা খ্রীষ্টের সাথে মিলনের গুণে পবিত্রীকৃত। তিনিই পবিত্রকরণের একমাত্র একক উৎস এবং তিনিই তাঁর লোকদেরকে আত্মিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য যা যা প্রয়োজন তা যুগিয়ে থাকেন, যখন তারা বিশ্বাসে তাঁতে বাস করে। প্রেরিত পৌল যেমন লিখেছেন, “কিন্তু তা হতে তোমরা সেই খ্রীষ্ট যীশুতে আছ, যিনি হয়েছেন আমাদের জন্য ঈশ্বরের জ্ঞান-ধার্মিকতা ও পবিত্রতা এবং মুক্তি” (১ করিন্থীয় ১:৩০, গুরুত্বারোপ করা হয়েছে)। তাঁর লোকদের জন্য পবিত্রকরণের উৎস হওয়ার জন্য, যীশুকে মৃক্তির কাজের মধ্যদিয়ে নিজেকে পবিত্র করতে হয়েছিল (যোহন ১৭:১৯)। যদিও তাঁর কোন পাপ ছিল না (২ করিন্থীয় ৫:২১), তিনি সিদ্ধভাবে ঈশ্বরের ব্যবস্থা এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ঈশ্বরের আদেশ পালনের দ্বারা তাঁর লোকদের জন্য নিজেকে পবিত্র করেছিলেন (যোহন ১০:১৭-১৮)। গীয়ারদস ভস ব্যাখ্যা করেছেন, “এটাকে ……. ত্রাণকর্তার মধ্যেকার পরিবর্তন হিসেবে ধরে নেয়া যাবে না, যেন এ পবিত্রকরণে পূর্বেকার পবিত্রতার কোন ঘাটতি ছিল বলে পূর্বানুমান করা যায়, কিন্তু ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বাধ্যতায় (নিষ্ক্রিয় ও সক্রিয়) তাঁর জীবনের এক পবিত্র উৎসর্গ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।” খ্রীষ্টের বাধ্যতার জীবনের সাথে, তিনি তাঁর ক্রুশীয় মৃত্যুর মধ্যদিয়ে আমাদের জন্য নিজে পবিত্রীকৃত হয়েছেন। যেহেতু বিশ্বাসীদের পাপ খ্রীষ্টেতে আরোপীত হয়েছে, এবং তিনি সেগুলোকে ক্রুশীয় কাষ্ঠে তাঁর দেহে বহন করেছেন, যখন তিনি ঈশ্বরের অগ্নিময় ক্রোধের অধীনে পতীত হয়েছেন, তখন সেগুলো বিচারের দিক থেকে বিশোধিত হয়েছে।
২. পুনর্জন্ম হলো পবিত্রকরণের ফোয়ারা
যেহেতু ন্যায্যতা মুক্তির বৈধ সুফল (অর্থাৎ সকলের-জন্য-একবারের কাজ), পবিত্রকরণ পুনর্জন্মের রূপান্তরকারী আশীর্বাদ থেকে আরও যথাযথভাবে প্রবাহিত হয়। বিশ্বাসীদের খ্রীষ্টিয় অভিজ্ঞতার শুরুতে তাদের জীবনে এক নূতন স্বভাবের প্রয়োগ (অর্থাৎ পুনর্জন্ম) পবিত্রকরণের প্রক্রিয়া শুরু করে। যেমন, ওয়েষ্টমিন্সটার কনফেশন অব ফেইথ বিবৃত করে, “যারাই পুনর্জন্ম প্রাপ্ত হয়েছেন, …….. তাদের মধ্যে নূতন হৃদয় ও নতুন আত্মা পেয়ে, আরও পবিত্রকৃত …….., [এবং] খ্রীষ্টের পবিত্রকারী আত্মা হতে অবিরত শক্তি সরবরাহের মধ্যদিয়ে, পুনর্জন্মের দিক উপচিয়ে উঠে: এবং এতেই পবিত্রগণ অনুগ্রহে বৃদ্ধি পায়, ঈশ্বর-ভয়ে পবিত্রতাকে সিদ্ধ করে।” (WCF 13:1, 3)
৩. পবিত্রকরণের নির্দিষ্ট এক দিক রয়েছে
ফিলাডেলফিয়ার ওয়েষ্টমিন্সটার থিওলজিক্যাল সেমিনারির সিস্টেম্যাটিক থিওলজির প্রয়াত অধ্যাপক জন মুরে, নির্দিষ্ট পবিত্রকরণ এবং অগ্রগতিশীল পবিত্রকরণের মধ্যে যথার্থই পার্থক্য করেছেন। বিশ্বাসীদের পবিত্রীকৃত হওয়া বিষয়ক নূতন নিয়মের এমন শাস্ত্রাংশগুলো সম্পর্কে (উদাহরণ স্বরূপ, ১ করিন্থীয় ১:২; ৬:১১; ইব্রীয় ১০:১০), মুরে লিখেছেন, “নূতন নিয়মে পবিত্রকরণের বিষয়ে সবচে’ বেশী বৈশিষ্টসূচক যে পরিভাষাগুলো ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো প্রক্রিয়া নয় কিন্তু সকলের-জন্য-একবারের নির্দিষ্ট একটি কাজ বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে …… সেজন্য পবিত্রকরণকে শুধুমাত্র অগ্রগতিশীল কাজ হিসেবে চিন্তা করা ……… বাইবেলের ভাষার মূলভাব হতে বিচ্যুতি হবে।”
নির্দিষ্ট পবিত্রকরণে বিশ্বাসীদের জীবনে পাপের শক্তি থেকে এক আমুল বিচ্ছেদ অন্তর্ভূক্ত। খ্রীষ্ট যখন আমাদের পাপের কারণে ক্রুশে মৃত্যুবরণ করেছেন, তখনই পাপ থেকে এই বিচ্ছেদ সংঘটিত হয়েছে (রোমীয় ৬:১০)। মুরে ব্যাখ্যা করেছেন:
খ্রীষ্ট তাঁর মৃত্যু ও পুনরুত্থানের মধ্যদিয়ে পাপের ক্ষমতাকে ভেঙ্গে দিয়েছেন, এই জগতের দেবতা, অন্ধকারের অধিপতির উপরে বিজয় অর্জন করেছেন, জগৎ এবং এর শাসকদের উপর বিচার কার্যকর করেছেন, এবং সেই বিজয়ের দ্বারা তাঁর সাথে যুক্ত সকলকেই অন্ধকারের শক্তি থেকে মুক্ত করেছেন এবং তাঁর নিজের রাজ্যে তাদেরকে পরিবর্তীত করেছেন। খ্রীষ্ট এবং তাঁর লোকদের মধ্যে এই সম্পর্ক এতই অন্তরঙ্গ যে তারা তাঁর সাথে এ্ই সকল বিজয় অর্জনের অংশী এবং তাই পাপের সম্বন্ধে তারা মৃত, খ্রীষ্টের পুনরুত্থানের ক্ষমতায় তাঁর সাথে পুনরুত্থিত।
একজন বিশ্বাসী যখন খ্রীষ্টের সাথে উদ্ধারিত রূপে সংযুক্ত হয়, তখন মুক্তির কাজের এ দিকটি এক সময় তার খ্রীষ্টিয় অভিজ্ঞতায় উপলব্ধ হয়।
৪. বিশ্বাস ও প্রেম পবিত্রকরণের দ্বৈত উপকরণ
যেখানে বিশ্বাসীদের ন্যায্যতা (অর্থাৎ ঈশ্বরের সম্মুখে তাদের ধার্মিক হিসেবে গৃহীত হওয়া) শুধুমাত্র বিশ্বাসে, সেখানে বিশ্বাসীদের জীবনে “প্রেমের মধ্যদিয়ে কার্যসাধক বিশ্বাস” দ্বারা পবিত্রকরণের প্রক্রিয়া ঘটে (গালাতীয় ৫:৬)। যে বিশ্বাস দ্বারা বিশ্বাসীরা ন্যায্যগণিত হয়েছে, খ্রীষ্টেতে সেই একই বিশ্বাস দ্বারা তারা পবিত্রীকৃত। তথাপি, বিশ্বাসীদের অভিজ্ঞতায়, অনুগ্রহে বৃদ্ধি আনয়নে বিশ্বাস প্রেমের সাথে একত্রে সক্রিয়ভাবে কাজ করে। ঈশ্বর তাঁর লোকদের জীবনে যা করেছেন এবং তার সাড়াদানে তাদেরকে যা করতে আহবান করা হয়েছে, এ দু’য়ের মাঝে সামঞ্জস্য রয়েছে। প্রেরিত পৌল এই যৌথ কাজকে লিপিবদ্ধ করেছেন, তিনি লিখেছেন, “সভয়ে ও সকম্পে আপন আপন পরিত্রাণ সম্পন্ন কর, কারণ ঈশ্বরই আপন হিতসঙ্কল্পের নিমিত্ত তোমাদের অন্তরে ইচ্ছা ও কার্য উভয়েই সাধনকারী” (ফিলিপীয় ২:১২-১৩)।
৫. বিশ্বাসীদের অগ্রগতিশীল পবিত্রকরণে এগিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সাহায্য করতে ঈশ্বর সুনির্দিষ্ট উপায় দিয়েছেন।
পবিত্রকরণ যদিও খ্রীষ্ট তাঁর মৃত্যু ও পুনরুত্থানের মধ্যদিয়ে সম্পাদন করেছেন, তার উপর ভিত্তিকৃত, এবং তা পবিত্র আত্নার শক্তির মধ্যদিয়ে বিশ্বাসীদের জীবনে অভিজ্ঞতা-লব্ধ হয়, তথাপি বিশ্বাসীদেরকে অনুগ্রহে বৃদ্ধি লাভের ক্ষেত্রে সাহায্য করার জন্য ঈশ্বর সুনির্দিষ্ট কিছু উপায় দিয়েছেন। বিশ্বাসীদের অগ্রগতিশীল পবিত্রকরণ তাঁর অনুগ্রহের উপায় সংস্থানের সাথে সমমানসম্পন্ন হবে। ঈশ্বর তাঁর লোকদের পবিত্রকরণের জন্য কেন্দ্রীয় যে উপায়গুলো দিয়েছেন, সেগুলো হলো বাক্য, আচারানুষ্ঠানসমূহ, এবং প্রার্থনা। যীশু তাঁর মহাযাজকীয় প্রার্থনায় বলেছেন, “তাদেরকে সত্যে পবিত্র কর; তোমার বাক্যই সত্যস্বরূপ” (যোহন ১৭:১৭)। প্রেরিত পৌল প্রভুর ভোজের “আশীর্বাদের পানপাত্র” (১ করিন্থীয় ১০:১৬) বিষয়ে বলতে গিয়ে প্রভুর ভোজের এ অনুগ্রহের উল্লেখ করেছেন। বাক্য, আচারানুষ্ঠানসমূহ এবং প্রার্থনার পরিচর্যাসমূহ সম্মিলিত আরাধনার কেন্দ্রীয় বিষয়। তাই প্রভুর দিনের আরাধনায় পবিত্রগণের সাথে সমবেত হওয়া আমাদের অগ্রগতিশীল পবিত্রকরণের উদ্দেশ্যে অপরিহার্য।
এই প্রবন্ধটি ৫টি বিষয় আপনার জানা উচিত এর অংশবিশেষ থেকে সংগৃহীত।
এই প্রবন্ধটি মূলতঃ লিগনিয়্যার মিনিস্ট্রিজ ব্লগে প্রকাশিত হয়েছিল।


